সোমবার, আগস্ট ১৯

প্রতিনিধিরা থাকবেন, সংবাদমাধ্যম নয়! সোমবার হবে বৈঠক, মিলবে কি রফাসূত্র

দ্য ওয়াল ব্যুরো: “কোথায় আলোচনা হবে জনগণের স্বার্থে জায়গা ঠিক করার ব্যাপারটা আমরা মুখ্যমন্ত্রীর উপরেই ছেড়ে দিলাম। উনি বলুন কোথায় বসবেন। আমরা তৈরি।”– নিজেদের বৈঠকের শেষে এমনটাই বক্তব্য ছিল আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তারদের। সেই সঙ্গে তাঁরা আরও জানান, আলোচনায় রাজ্যের সবকটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রতিনিধিকে রাখতে হবে। এবং অবশ্যই আলোচনা হতে হবে প্রকাশ্যে, সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে। বন্ধ দরজার পিছনের আলোচনা ভিত্তিহীন বলেও এ দিন মন্তব্য করেছেন আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তাররা।

দেখুন ডাক্তারদের প্রেস-বিবৃতি।

নবান্ন সূত্রের খবর, ডাক্তারদের দাবির একাংশ মেনে নিলেও, সবটা মানা সম্ভব হবে না। রাজ্যের ১৪টি মেডিক্যাল কলেজের প্রত্যেকটি থেকে দু’জন করে– মোট ২৮ জন প্রতিনিধির সঙ্গে, আগামী কাল, সোমবার, দুপুর তিনটে নাগাদ মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক করবেন নবান্নের ১৪ তলার সভাঘরেই। তবে কোনও সংবাদমাধ্যমকে সে বৈঠকে উপস্থিত থাকতে দিতে রাজি নয় সরকার।

আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের সূত্রের খবর, এই দাবি তাঁরা না-ও মেনে নিতে পারেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আন্দোলনকারীর কথায়, “আন্দোলন যখন ক্রমেই চড়ছিল, তখন মুখ্যমন্ত্রী নিজে এক বারও এনআরএস-এ আসেননি। যদিও বা গেলেন, তা-ও পিজি-তে। কিন্তু সেখানে গিয়েও উনি জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গেও কথাই বলেননি। প্রকাশ্যে রীতিমতো হুমকি দিয়ে, ভয় দেখিয়ে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। রোগীদের অসুবিধা নিয়ে সরব হয়েছেন, কিন্তু আমাদের দাবি নিয়ে একটি কথাও বলেননি। সমস্ত সংবাদমাধ্যমের সামনে চিৎকার করে বলেছেন আমরা বহিরাগত, আমরা রাজনৈতিক, আমরা অমানবিক। তা হলে আজ আমাদের দাবি শুনতে, শোনার পরে ওঁর মতামত জানাতে, আড়াল খুঁজতে হচ্ছে কেন ওঁকে!”

এক সিনিয়র ডাক্তারেরও বক্তব্য, এনআরএস-এ জুনিয়র ডাক্তার পরিবহ মুখোপাধ্যায়র মার খাওয়ার পরে শুরু হওযা আন্দোলন যখন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করল, তখন সেই আন্দোলনের প্রথমেই যদি প্রতিনিধিদলকে নবান্নে ডেকে পাঠিয়ে  মুখ্যমন্ত্রী আলোচনা করতেন, তা হলে বন্ধ দরজার ওপারে বৈঠকের একটা মানে থাকত। কিন্তু এই আন্দোলন যখন এতটা বিস্তারিত ও গভীর, এত মানুষ যখন জড়িয়ে গেছেন, তখন কেন দরজা বন্ধ করে আলোচনা হবে!”

সূত্রের খবর, জুনিয়র ও সিনিয়র নির্বিশেষে একটা বড় অংশের চিকিৎসক কাজে ফিরতে চান। রোগী পরিবারগুলির অসুবিধার ব্যাপারে তাঁরা সত্যিই চিন্তিত। কিন্তু একই সঙ্গে, আন্দোলনের এতটা পথ পেরিয়ে এসে ন্যূনতম সুরক্ষার নিশ্চিত দাবিটুকু আদায় না করে, মাঝপথে আন্দোলন ভেঙে ফেলে কাজ শুরু করে দেওয়াও তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়।

এই অবস্থায় আন্দোলনকারীদেরই একটি অংশের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, আন্দোলন স্থগিত করে দু’দিনের জন্য সমস্ত পরিষেবা স্বাভাবিক করা যায় কি না। কিন্তু এতে ভয়, এক বার স্বাভাবিক করার পরে ফের পরিষেবা বন্ধ করলে, আন্দোলনটি নিশ্চিত ভাবেই জনসমর্থন হারাবে। এই অবস্থায় নবান্ন অভিযান করে ডেপুটেশন জমা দিয়ে নিজেদের দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মতামত শুনে আসার কথাও হয়েছিল।

কিন্তু আপাতত, আগামী কাল অর্থাৎ সোমবারের বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে সবাই। একটু আশ্বাস বা সহানুভূতি কি মিলবে প্রশাসনের তরফে? সুরক্ষার দাবি আদায় করে কি কাজে ফিরতে পারবেন চিকিৎসকেরা? নাকি নতুন কোনও ঝড়ে ফের বাড়তে পারে আন্দোলনের তীব্রতা? উত্তর দেবে সময়ই।

এরই মধ্যে, আগামী কাল, সোমবার সকাল সাড়ে ন’টায় একটি এফএম চ্যানেলে, সরাসরি সবটুকু জানাবে এনআরএস-এর জুনিয়র ডাক্তাররা। তাঁদের দাবি, সংবাদমাধ্যম তাঁদের আন্দোলনের বিষয়ে অর্ধসত্য প্রচার করছে।

আরও পড়ুন…

সাপে কাটা রোগীকে জীবন দিলেন শালবনির ডাক্তাররা, অন্য এলাকাও তাঁদেরই খোঁজে

Comments are closed.