লকডাউনের মধ্যে কুষ্ঠ কলোনিতে ত্রাণ দিলেন পুরুলিয়া আদালতের বিচারকরা

সোনায়জুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের সিমনপুরে ১৯৫টি পরিবারের বাস যাঁরা একটা সময় কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁরা সুস্থ হওয়ার পর কেউ বাড়িতে ফিরতে পারেনি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজোড়া লকডাউনের মধ্যে এবারে দুঃস্থ, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ নাগরিকদের পাশে দাঁড়ালেন পুরুলিয়া জেলা আদালতের বিচারকরা। পুরুলিয়ার মফসসল থানার সোনায়জুড়ি গ্রামে বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টায় কুষ্ঠ কলোনিতে তাঁরা ত্রাণ বিতরণ করেন।

    সোনায়জুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের সিমনপুরে ১৯৫টি পরিবারের বাস যাঁরা একটা সময় কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁদের চিকিৎসা হয় লেপ্রসি মিশন পুরুলিয়ায়। তাঁরা সুস্থ হওয়ার পর কেউ বাড়িতে ফিরতে পারেনি। কারও হাত নষ্ট হয়ে গেছে, কারও চলার শক্তি নেই। পরিবারের লোকজন তাঁদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগই রাখেনি ফলে সেই সব বৃদ্ধবৃদ্ধারা এখানেই থেকে যান। এঁদের জীবিকা মূলত ভিক্ষাবৃত্তি। গোটা দেশে লক ডাউন ঘোষণা হওয়ায় বাজার দোকান বন্ধ। রাস্তাঘাটে লোকজন বেরচ্ছেন না বলে তাঁদের রুটি রুজি বন্ধ হয়ে যায়। পেটে টান পড়তে শুরু করে। তাঁরা কেউই আস্তানা ছেড়ে বেরোতে পারছেন না।

    জেলা আদালতের বিচারকরা দুঃস্থ মানুষজনের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে জানতে পারেন সিমনপুরের কুষ্ঠ কলোনির আবাসিকদের কথা। ঠিক হয় প্রতিটি পরিবারকে তাঁরা দেবেন ৪ কেজি করে চাল, দেড় কেজি করে আলু, পাঁচশো গ্রাম করে মসুর ডাল, পাঁচশো গ্রাম করে নুন ও একটি করে হাত ধোওয়ার সাবান।

    যাঁদের কেউ খোঁজই রাখে না তাঁরা সকাল বেলায় এভাবে ত্রাণ পাওয়ায় দৃশ্যতই খুশি ছিলেন। জেলার বিচারকরাও সত্যিকারের অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে পেরে খুশি।

    কুষ্ঠ রোগ পুরোপুরি সেরে গেলেও তার ফলে অনেকের অঙ্গহানি হয়। অনেকটা কুসংস্কারের কারণেই ঘরে ফেরা হয় না সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষজনের। অঙ্গহানি হয়ে যাওয়ায় অনেকে কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। এই অবস্থায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভিক্ষা করা ছাড়া অন্য উপায় তাঁদের কাছে থাকে না।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More