মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৮
TheWall
TheWall

লাভপুর মামলায় চার্জশিট হতেই ভয়ে সিঁটিয়ে জেরিনা বিবি, বাড়িতে বসল পুলিশ পিকেট

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: লাভপুরে ২০১০ সালে তিন সিপিএম কর্মী খুনের ঘটনায় সাপ্লিমেন্টরি চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ। তাতে নাম রয়েছে বিজেপি নেতা মুকুল রায় এবং তৃণমূল থেকে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়া বিধায়ক মনিরুল ইসলামের। আর তারপর থেকেই কার্যত ভয়ে সিঁটিয়ে রয়েছে নিহত তিনজনের বৃদ্ধা মা জেরিনা বিবি।

জানা গিয়েছে, চার্জশিটে মনিরুলের নাম আছে এই খবর জানাজানি হতেই উত্তেজনা শুরু হয়েছে লাভপুরের ওই গ্রামে। জেরিনা বিবির আশঙ্কা, হামলা করতে পারে মনিরুলের বাহিনী। সংবাদ মাধ্যমের কাছে সে কথা জানিয়েছেন ৯০ পেরিয়ে যাওয়া জেরিনা বিবি। তিনি এও বলেছেন, রবিবার বিকেল থেকেই তাঁদের বাড়ির পাশে বাইকবাহিনীর চক্কর কাটা শুরু হয়ে গিয়েছিল। রবিবার বিকেলে দু’জন সশস্ত্র পুলিশকে পাহারায় বসানো হয়। সোমবার বীরভূম জেলা পুলিশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আপাতত কয়েকদিন ২৪ ঘণ্টা পুলিশ পিকেট থাকবে ওই বাড়িতে।

২০১০ সালের ৪ জুন লাভপুরের নবগ্রামে সালিশি সভার নাম করে তিন ভাই কুটুন শেখ, ধানু শেখ ও তরুক শেখকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ ওঠে মনিরুল বাহিনীর বিরুদ্ধে। তিন ভাইই সিপিএম করতেন। তোলপাড় পড়ে যায় রাজ্য রাজনীতিতে। সেই সময়ে মনিরুল ছিলেন ফরওয়ার্ডব্লক নেতা। ফরওয়ার্ড ব্লক তখন বহিষ্কার করে মনিরুলকে। পরে তিনি যোগ দেন তৃণমূলে।

এরপর লাভপুর মামলার তদন্তে ৫২ জনের নামে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। কিন্তু তাতে নাম ছিল না মনিরুলের। যে তিন ভাই খুন হয়েছিলেন, তাঁদের দাদা মামলা করেছিলেন। পরে সেই মামলা তুলেও নেন তিনি। অনেকের মতে, মনিরুলদের চাপেই সে সময় মামলা তুলে নিয়েছিলেন দাদা। কিন্তু তিন সন্তানের মা মামলা করেন। জানিয়ে দেন, তিনি শেষ দেখে ছাড়বেন। সেই মামলা গড়ায় হাইকোর্ট পর্যন্ত।

২০১৬ সালে হাইকোর্টের নির্দেশে পুলিশি প্রহরা বসানো হয়েছিল জেরিনা বিবির বাড়িতে। কিন্তু ২০১৭ সালে আবার তা তুলে নেওয়া হয়। হাইকোর্টের নির্দেশেই ফের তদন্ত শুরু করে পুলিশ। আর তার সাপ্লিমেন্টরি চার্জশিটেই নাম রয়েছে মুকুল-মনিরুলের।

Share.

Comments are closed.