ভুলতে বসা মটকা দৌড়, তির ছোড়াকে ফিরিয়ে আনল জলপাইগুড়ির চা বাগান

বার্ষিক খেলায় জোর আদিবাসী খেলায়

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দৌড়, মিউজিক্যাল চেয়ারের মতো প্রচলিত খেলার পাশাপাশি ক্রমেই জনপ্রিয়তা হারানো খেলা ও আদিবাসীদের খেলা নিয়ে শীতকালীন প্রতিযোগিতা হল জলপাইগুড়ির ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানে। কর্মস্থলে এমন আয়োজনে খুশি চা বাগানের কর্মীরা। রাজ্য সরকার চাইছে যেসব খেলা লোক সংস্কৃতির অঙ্গ সেগুটি টিকে থাক।

    আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিরন্দাজি স্থান পেয়েছে ঠিকই কিন্তু গ্রামবাংলায় আর তার কদর নেই। শীতকাল জুড়ে বিভিন্ন গ্রামে ক্রিকেট-ফুটবল প্রতিযোগিতা হয় কিন্তু স্লো-সাইকেল এখন আর তেমন দেখা যায় না। মটকা দৌড়, পিচ্ছিল দণ্ডে ওঠার মতো অনেক খেলা তো আদিবাসী সমাজের বাইরে সেভাবে লোকজন খোঁজই রাখেন না।

    তিরন্দাজি

    ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি – প্রতি বছর এই সময়টায় চা পাতা তোলা হয় না কোনও বাগান থেকে। এই সময় চা গাছে নতুন পাতা গজায়। যাঁরা চা পাতা তোলেন এই তিনমাস মোটামুটি ভাবে তাঁদের ছুটি থাকে। শীতকালে এই সময়েই জলপাইগুড়ির বিভিন্ন চাবাগানে বসে খেলা প্রতিযোগিতার আসর।

    শীতকালে বিভিন্ন স্কুলে যেমন খেলার প্রতিযোগিতা হয় অনেকটা সেইরকম ভাবে চাবাগানেও বসে খেলার আসর। এখানে থাকে ১০০ মিটার ও ২০০ মিটার দৌড়, রিলে রেস, হাই জাম্প, লং জাম্প, মিউজিক্যাল চেয়ার প্রভৃতি। থাকে স্লোসাইক্লিং ও আদিবাসী সমাজে জনপ্রিয় বিভিন্ন খেলা। বেশ কিছুদিন ধরে এইসব খেলার চাপে ব্রাত্য হয়ে পড়েছিল তিরন্দাজি, মটকা দৌড়, পিলো ফাইট, পিচ্ছিল দণ্ডে ওঠা, স্লো সাইকেল রেস প্রভৃতি। চা শ্রমিকদের উৎসাহিত করতে প্রতিযোগিতায় যোগ দেন চা বাগান কর্তৃপক্ষও।

    আদিবাসীরা খেললেন নিজেদের খেলা

    ডেঙুয়াঝাড় চা বাগানের সিনিয়র ম্যানেজার জীবনচন্দ্র পাণ্ডে বললেন, “ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত চা বাগানে লিন পিরিয়ড থাকে। এই সময় চা পাতা তোলার কাজ হয় না। তাই ফার্স্ট ফ্লাশের  আগে এই সময়ে চা শ্রমিকদের মনোরঞ্জনের জন্য বনভোজন ও বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করি। এর মধ্যে শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা একটি বড় অনুষ্ঠান। যে সমস্ত খেলা বিলুপ্তির পথে সেই সব খেলার উপরে আমরা বেশি করে জোর দিই।”

    সোনা ভুঁইয়া নামে বাগানের এক চা শ্রমিক জানালেন, তিরন্দাজি-সহ  বিভিন্ন রকম খেলা হয়েছে এই প্রতিযোগিতায়, এইসব খেলা তাঁরা উপভোগ করেছেন, দিনভর আনন্দ করেছেন।

    বাগানের স্থায়ী শ্রমিক সীমা ওঁরাও বলেন, “সারা বছর চা পাতা তুলে থাকি। তেমন কোনও মনোরঞ্জন হয় না। আজ খেললাম, দিনভর খুব আনন্দ করলাম। বছরে একদিন এই আয়োজন করা হয়, এদিন বাগানের সকলের সঙ্গে দেখা হয়।”

    হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন খেলা ফিরিয়ে আনতে ইতিমধ্যেই উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। তারই এক টুকরো ছবি ধরা পড়ল আদিবাসী অধ্যুষিত চা বাগানের শীতকালীন খেলা প্রতিযোগিতায়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More