মঙ্গলবার, মে ২১

অর্জুনকে টক্কর দিতে তৃণমূলের নতুন অস্ত্র কি জিতু

শোভন চক্রবর্তী

দলের হিন্দিভাষী সেলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পর্যবেক্ষক ছিলেন বিহারেরও। কিন্তু টিকিট না পেয়ে দিদির সঙ্গে তিন দশকের বাঁধন চুকিয়ে দিয়ে অর্জুন সিং আপাতত বিজেপি-তে। গেরুয়া শিবির যে তাঁকে ব্যারাকপুর কেন্দ্রে প্রার্থী করবে তা এক রকম পরিষ্কার। শিল্পাঞ্চলের দাপুটে নেতা বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পরই তাই রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল দানা বাঁধছিল, তাহলে কি তৃণমূলের হিন্দিভাষী ভোটে থাবা বসাবেন ‘বাহুবলী’ নেতা? পাল্টে যাবে ব্যারাকপুরের সমীকরণ? তৃণমূলের শীর্ষ সূত্রের মতে, তেমনটা হচ্ছে না। কিছুতেই নয়। অর্জুনের পরিবর্ত খুঁজতে নেমে পড়েছে শাসক দল। এবং এই কাজে নাকি অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে তৃণমূল।

ভাটপাড়া, জগদ্দল, শ্যামনগর, গারুলিয়ার রাজনীতির খোঁজ খবর রাখা অনেকেই জানেন, সেখানে অর্জুনের অন্যতম ‘রাইভাল’-এর নাম জিতু সাউ। অর্জুনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের টক্কর তাঁর। সূত্রের খবর, জিতুকেই এ বার তৃণমূলের জার্সি গায়ে ভাটপাড়া—সহ লাগোয়া এলাকায় নামাতে চাইছে তৃণমূল। উত্তর চব্বিশ পরগনার তৃণমূল জেলা সভাপতি তথা খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং নৈহাটির তৃণমূল বিধায়ক পার্থ ভৌমিকের সঙ্গে অনেক দূর কথাও এগিয়ে গিয়েছে জিতুর।

ফুটবলপ্রেমী এক তৃণমূল নেতার কথায়, অর্জুনের বিরুদ্ধে জিতুই হবেন ডিফেন্সিভ ব্লকার। দ্য ওয়াল-এর তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল জিতুর সঙ্গে। ফোনে তিনি জানান, “দু’তিন দিনের মধ্যেই যোগ দেব তৃণমূলে।” তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, পারবেন অর্জুন সিংকে আটকাতে? জিতুর সাফ কথা, “দীনেশদাকে ভাটপাড়া থেকে লিড দেব। মিলিয়ে নেবেন।” সেই সঙ্গে জিতুর দাবি, “যে অত্যাচার করেছেন উনি, মানুষ ঠিক জবাব দিয়ে দেবেন।”

এখন প্রশ্ন হচ্ছে জিতু কে?

সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের রাজনীতির খবর রাখা লোকজন বলছেন, “জিতু হচ্ছেন ভাটপাড়ার একমাত্র ব্যক্তি, যিনি অর্জুনের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারেন। যে ভাষায় অর্জুন বলেন, সে ভাষাতেই জিতুও। আগে বামেদের সঙ্গে দহরমমহরম ছিল জিতুর। কিন্তু বামেদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণেই ট্র্যাক থেকে ছিটকে জেতে হয় তাঁকে। তাঁর নামে মামলাও রয়েছে। তাই ষোলোর বিধানসভায় তাঁকে সিম্বল দেয়নি আলিমুদ্দিন। লোকলস্কর নিয়ে সিপিএম রাজ্য দফতরে বিক্ষোভও দেখিয়েছিল জিতু-বাহিনী। শেষ পর্যন্ত বাম-কংগ্রেস জোট সমর্থিত নির্দল প্রার্থী হয়ে কাপ-প্লেট চিহ্ন নিয়ে লড়াই করেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জিততে পারেননি জিতু। ২০১৫-র পুরসভা ভোটে নিজের ওয়ার্ডে অর্জুন-এর লোকজনকে ঢুকতে দেননি তিনি। নিজের বাহিনী দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে আটকে দিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার অর্জুন গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ভাটপাড়া, গারুলিয়া, ব্যারাকপুরের মতো পুরবোর্ড টেকানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। যদিও শাসক দলের শীর্ষ নেতারা ময়দানে নেমে আপাতত তা ঠেকিয়ে দেন। এই পরিস্থিতিতে জিতুকে দিয়ে ভাটপাড়া জিততে তৃণমূল নতুন কৌশল নিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের অনেকে। সিং বনাম সাউ-এর লড়াইও যে হিন্দিভাষী ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে, তাও মনে করছেন অনেকে।

যদিও অর্জুন শিবির এ সবে খুব একটা পাত্তা দিতে নারাজ। তাদের কথায়, “অর্জুন সিং একজনই হন। ওয়ান অ্যান্ড ওনলি।”

আরও পড়ুন

অকপট অর্জুন: দিদি বলেছিলেন দীনেশদাকে জেতাতে হবে, আমি বলেছিলাম জিতবে না

Shares

Comments are closed.