Exclusive: প্যারোলে কলকাতার অতিথিশালায় ছত্রধর, জঙ্গলমহলে জমি ফেরাতে তিনিই কি এ বার তুরুপ-তাস দিদির

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

শঙ্খদীপ দাস

ছত্রধর মাহাতো সহ চার জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বুধবার খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট।

কিন্তু ছত্রধর মাহাতো এখন কোথায়? জেলে?

না। পুলিশ সূত্রের খবর, লোকসভা ভোটের আগে থেকেই দফায় দফায় পেরোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে ছত্রধর মাহাতোকে। এখনও এই মুহূর্তে দক্ষিণ কলকাতার ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাস সংলগ্ন একটি অতিথিশালায় পুলিশ পাহারায় রয়েছেন তিনি। এমনকী একটি সূত্রের দাবি, বাংলার শাসক দলের কয়েক জন নেতার সঙ্গেও যোগাযোগে রয়েছেন ছত্রধর।

পূর্বতন পশ্চিম মেদিনীপুর তথা বর্তমান ঝাড়গ্রাম জেলার লালগড়ে ছত্রধর মাহাতোর উত্থান সিনেমার মতোই। পুলিশ সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটি গঠন করে লাল মাটির জঙ্গলমহলে স্থানীয় মানুষের কাছে রাতারাতি নেতা বনে যান ছত্রধর। মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জমানায় ২০০৮ সাল নাগাদ তামাম জঙ্গলমহলে তাঁর নেতৃত্বেই জনসাধারণের কমিটির প্রভাব ও প্রতাপ ছিল অবিসংবাদিত। পরে কাঁটাপাহাড়ি বিস্ফোরণ মামলায় ২০০৯ সালে গ্রেফতার হয়েছিলেন ছত্রধর ও আরও পাঁচ জন।

নিম্ন আদালত এর আগে যাবজ্জীবন সাজা শুনিয়েছিল ছত্রধরকে। বুধবার তা খারিজ করে সাজা কমিয়ে দিয়ে দশ বছর করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। উচ্চ আদালতের সেই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ছত্রধরকে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্ক কষা শুরু হয়ে গিয়েছে শিবিরে শিবিরে।

বিজেপি-র অভিযোগ, ছত্রধর মাহাতোকে পেরোলে মুক্তি দিয়ে লোকসভা ভোটের সময়েই তাঁকে কাজে লাগিয়েছে শাসক দল। জনসাধারণের কমিটির এই নেতা তখন ফোনে যোগাযোগ করেছেন ঝাড়গ্রামে নিচুতলার অনেক আদিবাসী নেতা কর্মীর সঙ্গে। এ বার তৃণমূল ছত্রধরকে পুরোদস্তুর ব্যবহার করবে বলেই মনে করছেন গেরুয়া শিবির।

শাসক দলের অন্দরমহলে কান পাতলেও সেই এক কৌশলের প্রতিধ্বনিই শোনা যাচ্ছে। পঞ্চায়েত ভোটের সময় থেকেই গোটা জঙ্গলমহলে পায়ের তলার মাটি সরে যাওয়ার ইঙ্গিত পেয়েছে তৃণমূল। লোকসভা ভোটে তা প্রকট ভাবে ধরা পড়েছে। বাঁকুড়া জেলার দুটি আসন, মেদিনীপুর, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রাম সবকটিতেই হেরেছে তৃণমূল। তাৎপর্যপূর্ণ হল, একমাত্র ঝাড়গ্রামেই পরাজয়ের ব্যবধান কম।

তৃণমূলের এক নেতার কথায়, বুদ্ধিমানের জন্য এই ইশারাটুকুই যথেষ্ট। এমনিতেই ছত্রধর জেলে যাওয়ার পর তাঁর পরিবারকে খুশি রাখার যাবতীয় চেষ্টা করেছে তৃণমূল। ছত্রধরের ছেলেকে একটি সমবায় ব্যাঙ্কে চাকরির বন্দোবস্তও করে দেওয়া হয়েছে। এ বার হতেই পারে ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর তথা জঙ্গলমহলের একটা বড় অংশে ছত্রধরকে তৃণমূলের জমি পুনরুদ্ধারে পুরোদস্তুর কাজে লাগাবেন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More