শনিবার, আগস্ট ২৪

হাওড়ায় জোম্যাটো-বিক্ষোভে কি উস্কানি দিয়েছে বিজেপি?

  • 155
  •  
  •  
    155
    Shares

শোভন চক্রবর্তী

গরু ও শুয়োরের মাংস ডেলিভারি করবেন না বলে সংস্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন জোম্যাটোর কর্মীরা। হাওড়ার ডেলিভারি রাইডাররা রাস্তায় নেমে জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করছে জোম্যাটো। জোর করে গরু ও শুয়োরের মাংস ডেলিভারি করাচ্ছে। কিন্তু সেই বিক্ষোভের আটচল্লিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই প্রশ্ন উঠল ওই আন্দোলনে বিজেপি যোগ নিয়ে। আদৌ কি ওই আন্দোলন বা বিক্ষোভ স্বতঃস্ফূর্ত ছিল? নাকি ধর্মীয় ভাবাবেগকে উস্কে দিতেই পিছন থেকে কলকাঠি নাড়া হয়েছে?

লাল টি শার্ট পরা জোম্যাটোর ডেলিভারি কর্মীদের সঙ্গেই সে দিন সাদা শার্ট পরা এক ব্যক্তিকে দেখা গিয়েছিল ছবিতে। সংবাদ সংস্থা এএনআই যে ছবি সামনে এনেছিল, তাতে দেখা গিয়েছিল মুন্ডিত মস্তক আর পাকানো গোঁফের এক ভদ্রলোক সামনের সারিতে রয়েছেন জোম্যাটো কর্মীদের সঙ্গে। কে সেই ভদ্রলোক? তিনি বিজেপি নেতা। উত্তর হাওড়ার বিজেপি-র সম্পাদক। নাম সঞ্জীব শুক্ল।

উত্তর হাওড়ার ওড়িয়াপাড়ায় বাড়ি সঞ্জীবের। জোম্যাটোর যে ডেলিভারি কর্মী সংবাদমাধ্যমে বাইট দিয়েছিলেন, সেই বজরংনাথ বর্মাও বিজেপি-র সক্রিয় কর্মী। সঞ্জীবের বাড়িতেই নাকি রাত দিন দেখা যায় জোম্যাটোর ডেলিভারি রাইডার তথা বিজেপি কর্মী বজরংনাথ বর্মাকে। দ্য ওয়াল-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল বিজেপি নেতা সঞ্জীব শুক্লর সঙ্গে। তিনি বলেন “এই আন্দোলনের সঙ্গে বিজেপি-র কোনও যোগ নেই। তবে যাঁরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই বিজেপি কর্মী।” তাঁর কথায়, “এ দেশে প্রতি চারজনে একজন বিজেপি-র সমর্থক বা কর্মী। তাঁরা কি বিজেপি করেন বলে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারবেন না? কারও আত্মসম্মান, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগলে, তাঁকে সাহায্য করবে না?”

হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের একটি হোটেলের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ ডেলিভারি রাইডারদের। সেই হোটেলে গো মাংস রান্না হয়। শুয়োরের মাংস ওই তল্লাটে কোন হোটেলে পাওয়া যায়, তা নির্দিষ্ট করে বলেননি সঞ্জীব। ওই নিউ রিয়েল হোটেলের মালিক এক জন মুসলিম। মহম্মদ আসলাম। তিনি জানিয়েছেন, সুইগি, উবার ইট-এর মতো ফুড ডেলিভারি অ্যাপের সঙ্গেও তাঁর রেস্টুরেন্টের গাঁটছড়া বাঁধা। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে জোম্যাটো নিয়েই।

সপ্তাহ দেড়েক আগেই জোম্যাটো এসেছিল শিরোনামে। মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরের বাসিন্দা অমিত শুক্ল জোম্যাটোতে খাবার অর্ডার করেছিলেন। ডেলিভারি রাইডার অহিন্দু হওয়ায় প্রথমে তিনি রাইডার পাল্টাতে বলেন। কিন্তু জোম্যাটো জানিয়ে দেয়, তা সম্ভব নয়। তিনি অর্ডারই বাতিল করে দেন। তারপর টুইট করে লেখেন, “শ্রাবণ মাসে আমি অহিন্দুর হাতের খাবার খাই না। তাই জোম্যাটোকে অর্ডার দিয়েও তা বাতিল করে দিয়েছি। টাকা রিফান্ড নিইনি।” এরপর জোম্যাটো ওই টুইটটিকেই রিটুইট করে লেখে, “খাবারের কোনও ধর্ম হয় না। খাবারই একটা ধর্ম।”

এখন প্রশ্ন উঠছে, শুধু জোম্যাটোতেই এই বিক্ষোভ কেন? এটা জব্বলপুর কাণ্ডের রেশ নয়তো? সঞ্জীব শুক্লর দাবি অবশ্য, “এর সঙ্গে ওই ঘটনার কোনও যোগ নেই। এখানে ছেলেদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগছিল। আমরা পাশে দাঁড়িয়েছি।”

হাওড়ায় জোম্যাটো কর্মীদের বিক্ষোভ নিয়ে সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে ডোমজুড়ের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “কাউকে জোর করে ধর্মবিরোধী কাজ করাতে পারে না সংস্থা। এটা ঠিক নয়।” এ দিনও যোগাযোগ করা হয়েছিল তাঁর সঙ্গে। বিজেপি যোগের কথা শুনে মন্ত্রী বলেন, “আমি বলেছিলাম প্রত্যেকটি মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা আছে। ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছার ব্যাপার আছে। তবে এর মধ্যে যদি কোনও রাজনীতি ঢোকে, বিজেপি যদি ধর্মকে ব্যবহার করে স্বার্থসিদ্ধি করতে চায়, তবে আমি  তার তীব্র আপত্তি জানাচ্ছি।”

Comments are closed.