বাড়ির মধ্যে কুড়িটি ডিম আগলে ফনা তুলে বসে গোখরো, ডুয়ার্সের বানারহাটে মাটি কাটতে গিয়ে দেখলেন যুবক

বনকর্মীরা এসে সাপটিকে জীবন্ত উদ্ধার করেন। পাশাপাশি উদ্ধার করেছেন ডিমগুলিও।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাটি খুঁড়তে গিয়ে বাড়ির উঠোনে এমন দৃশ্য দেখতে হবে ভাবতেও পারেননি। একটা বা দুটো নয়, এক সঙ্গে কুড়িটা ডিম আগলে ফনা তুলে বসে রয়েছে একটি গোখরো সাপ। এমন দৃশ্য দেখে ভয়ে হাড় হিম হয়ে যায় ডুয়ার্সের বানারহাট থানার অন্তর্গত গয়েরকাটা উত্তর ডাঙা পাড়ার বাসিন্দা বান্ধান ওঁরাওয়ের।

    জমা জল নদর্মায় ফেলার জন্য বাড়ির একাংশে মাটি খুঁড়ে পাইপ বসাতে গিয়েছিলেন বান্ধান। খানিকটা মাটি খোঁড়ার পরে অনেকগুলো ডিম আগলে বসে থাকা গোখরো সাপ দেখে ভয় পেয়ে যান তিনি।  সঙ্গে সঙ্গেই কোদাল ফেলে পালিয়ে যান তিনি। খবর যায় অনারারি ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন সীমা চৌধুরীর কাছে।

    সীমা চৌধুরী বলেন, “খবর পাওবার পরে সঙ্গে সঙ্গে আমি খবর দিই বিন্নাগুড়ি ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াডে। সেখানে গিয়ে বনকর্মীরা জীবিত অবস্থায় সাপটিকে ধরেন এবং পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ডিম উদ্ধার করেন।” সাপটিকে না মেরে বন দফতের খবর দেওয়ার ফলে বোঝা যাচ্ছে যে এই অঞ্চলের মানুষ ক্রমেই বন্যপ্রাণীদের ব্যাপারে সচেতন হচ্ছেন।

     

    গোখরো সাপ মূলত শুকনো জায়গায় বা ইঁদুরের গর্তে বাস করে। পুরনো বাড়ির ইটের ফাঁকেও এদের দেখা যায়। মূলত ভারতীয় উপমহাদেশে এই বিষধর সাপের দেখা মেলে। স্ত্রী গোখরো এপ্রিল থেকে জুলাই মাসের মধ্যে ইঁদুরের গর্তে দশটি থেকে তিরিশটি ডিম পাড়ে। ৪৮ থেকে ৭০ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। পূর্ণ দৈর্ঘ্যের গোখরো লম্বায় ছ’ থেকে আট ফুট পর্যন্ত হয়।

    গত মাসের গোড়ায় বাঁকুড়ার সোনামুখিতে একটি পুকুরে জাল ফেলতে প্রায় সাত ফুট লম্বা একটি ময়াল সাপ ধরা পড়ে। এলাকার লোকজন সেটিকে কাছাকাছি একটি বনে ছেড়ে দেন। সাপটিকে মেরে না ফেলা হলেও সেক্ষেত্রে অবশ্য বন দফতরে খবর দেওয়া হয়নি। পরে এই ঘটনার কথা জানতে পারে বনদফতর।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More