সোমবার, মার্চ ২৫

কোন কোন আসনে প্রার্থী বদল করতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? সম্ভাব্য নতুন মুখ কারা?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটের জন্য দলের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে বলে সোমবার জানিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং তা জানানোর সঙ্গে সঙ্গে বাংলার রাজনীতিতে কৌতূহল ও জল্পনা দুই-ই ছড়িয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে। মূলত আগ্রহ ও কৌতূহল দুটি বিষয় নিয়ে। এক, বর্তমান কোন কোন সাংসদ এ বার প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন। দুই, সেই শূণ্য স্থানে নতুন মুখ কারা?

গোড়াতেই জানিয়ে রাখা দরকার, সোমবার রাতেই মোটামুটি ভাবে প্রার্থী তালিকা এক প্রকার চূড়ান্ত করে ফেলেছেন তৃণমূল নেত্রী। তবে যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া সেই সামগ্রিক ছবিটা কারও কাছেই পরিষ্কার নয়। দলের উপর তলার নেতা তথা বিভিন্ন জেলার পর্যবেক্ষকদের কাছে অবশ্য কিছুটা খণ্ডচিত্র রয়েছে। এবং সেগুলিকেই একত্রিত করে মোটামুটি ভাবে একটা ধারনা পাওয়া যাচ্ছে।

দলের দুই সাংসদ তথা বিষ্ণপুরের এমপি সৌমিত্র খান ও বোলপুরের এমপি অনুপম হাজরাকে ইতিমধ্যে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। শাসক দলের শীর্ষ সূত্রে খবর, এরই পাশাপাশি মুনমুন সেন, সন্ধ্যা রায়, তাপস পাল, উমা সরেন, অপরূপা পোদ্দারকে এ বার প্রার্থী না করার সম্ভাবনাই প্রবল। প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদ ইদ্রিস আলিও। এমনকী যাদবপুর ও মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হিসাবে বর্তমান দুই সাংসদ সুগত বসু ও চৌধুরী মোহন জাটুয়াকে ফের প্রার্থী করা হবে কিনা, তা নিয়েও তৃণমূলের মধ্যেই ভরপুর সংশয় রয়েছে। এ ছাড়া লোকসভা ভোটে আর প্রার্থী হবেন না বলে দলকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী। তিনি দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ ছিলেন। তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা চলছে বলেও কোনও কোনও শিবিরের দাবি।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দলের কোর কমিটির বৈঠকে মমতা বলেছিলেন, বর্তমান সাংসদদের মধ্যে থেকে এক-দুজনকে তিনি প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দিতে পারেন। কিন্তু তৃণমূলের শীর্ষ সারির নেতারাই জানাচ্ছেন, সেই সংখ্যা পৌঁছে যেতে পারে ৭ থেকে ১০-এ।

যার অর্থ প্রার্থী তালিকায় নতুন সাত থেকে দশটি মুখ দেখা যেতে পারে। যেমন, বিষ্ণপুরে সৌমিত্র খানকে বহিষ্কারের পর ওই আসনে প্রার্থী করা হচ্ছে কোতলপুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরাকে। বোলপুরে অনুপম হাজরাকে বহিষ্কারের পর সেখানে সম্ভবত প্রার্থী করা হচ্ছে অসিত মালকে। বাঁকুড়া লোকসভা আসনে প্রার্থী করা হতে পারে স্থানীয় বিধায়ক শম্পা দরিপাকে। শম্পা খাতায়কলমে এখনও কংগ্রেসের বিধায়ক।

অন্যদিকে মেদিনীপুর লোকসভা আসনে এ বার প্রার্থী হতে পারেন অভিষেক অনুগামী তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ মানস ভুইঞাঁ। মানসবাবুর রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর সেখানে সুব্রত বক্সীকে মনোনীত করা হতে পারে।

তৃণমূল সূত্রের মতে, বীরভূম লোকসভা আসনটি থেকে এ বার শতাব্দী রায়কে প্রার্থী না করার ব্যাপারেই সওয়াল করেছিলেন জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু সেই আর্জি খারিজ করে দিয়েছেন দিদি। বীরভূমের পাশাপাশি রাণাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক হলেন অনুব্রত। ওই আসনটিতে সদ্য খুন হওয়া কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসের বিধবা স্ত্রী রূপালি বিশ্বাসকে প্রার্থী করতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এ ছাড়া কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রেও এ বার তাপস পালের পরিবর্তে নতুন মুখ আনতে চলেছেন তৃণমূলনেত্রী। সেখানে প্রথমে দলের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রাখা হয়েছিল প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা ও বিধায়ক শঙ্কর সিংহের নাম। কিন্তু তিনি লোকসভায় প্রার্থী হতে চান না বলে জানিয়েছেন শঙ্করবাবু। এই অবস্থায় কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে বিধায়ক মহুয়া মৈত্রর নাম আলোচনার মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে আসানসোল লোকসভা আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম নিয়েও দলের মধ্যেই নানারকম আলোচনা রয়েছে। এক সময় ভাবা হয়েছিল, বিজেপি-র বিক্ষুব্ধ সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহাকে আসানসোলে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হবে। কিন্তু শত্রুঘ্ন-র নাম নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই তীব্র আপত্তি করেন আসানসোল পুরসভার মেয়র জীতেন্দ্র তিওয়ারি। শেষ পর্যন্ত দিদি সেখানে কাকে প্রার্থী করেন আগ্রহ রয়েছে তা নিয়েও।

তবে সন্দেহাতীত ভাবে প্রার্থী তালিকায় সব থেকে বেশি আগ্রহ থাকবে দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা কেন্দ্র নিয়ে। শেষ পর্যন্ত সুব্রত বক্সী যদি সত্যিই প্রার্থী হতে রাজি না হন, তা হলে ওই আসনে নতুন মুখ কে হবেন?

পর্যবেক্ষকদের একাংশ অবশ্য মনে করছেন, এই সব নামের পাশাপাশি কোনও চমক দেওয়ার চেষ্টাও থাকতে পারে প্রার্থী তালিকায়। যেমনটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই করে থাকেন। এবং এ প্রসঙ্গেই অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নাম নিয়েও জল্পনা চলছে। শেষ পর্যন্ত তিনি প্রার্থী হোন বা না হোন, এ ব্যাপারে কোনও সংশয় নেই যে প্রসেনজিৎকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দিয়ে তিনটি লোকসভা কেন্দ্রে সমীক্ষা চালিয়েছিল তৃণমূল।

আরও পড়ুন

#Breaking: যাঁরা টিকিট পাবেন না, নবান্নে একে একে ডাক পড়ছে তাঁদের?

Shares

Comments are closed.