শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০

সামাজিক কুসংস্কার রুখতে মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনকে ভরসা দিচ্ছেন ইমামরা  

  • 109
  •  
  •  
    109
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ: দাইমা দিয়ে সন্তান প্রসব থেকে নাবালিকার বিয়ে, একাধিক কুসংস্কার এবং কুপ্রথা রুখতে মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ময়দানে নামলেন ইমামরা।

ভাগবানগোলা, লালগোলা, হরিহরপাড়া, ফারাক্কা, রানিতলা, জলঙ্গি, ডোমকল, পিরতলা, শক্তিপুর, সামসেরগঞ্জ— সর্বত্রই সচেতনতা বৃদ্ধিতে ইমামদের অংশগ্রহণ সাড়া ফেলেছে। এইসমস্ত এলাকায় পালস পোলিও টিকা করণ কর্মসূচি থেকে শুরু করে শিশুশ্রম, নারী পাচার, নাবালিকার বিয়ে আটকানো এমনকী সন্তান প্রসবের সময়ে প্রসূতিদের গ্রামীন দাইমা ছেড়ে আধুনিক চিকিৎসা নির্ভর  হাসপালে নিয়ে যেতে প্রচার চালাতে ইমামদের পাশে নিয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন।

শুধু তাই নয়, প্রশাসনের পাশাপাশি জেলা স্বাস্থ্য দফতর ইমামদের নিয়ে সভাও করছেন। এ ব্যাপারে জেলার এক  স্বাস্থ্য আধিকারিক  বলেন, ‘‘কোনও ভাবেই যাতে একটি শিশুরও প্রাণ না যায় বাড়িতে প্রসবের কারণে সে জন্য সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর জেলা স্বাস্থ্য দফতর। প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার বাড়ানোর জন্যই সচেতনতার কাজে যুক্ত করা হচ্ছে ইমামদের। যাতে এই নিয়ে তাঁরা আরও বেশি সচেতনতা বাড়াতে পারেন।” লালগোলার বিডিও মহম্মদ সামসুজ্জামান  বলনে, “ইমামদের প্রচারে যুক্ত করে এক দিকে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে, তেমনই সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে তাঁরাও ওয়াকিবহাল হবেন।”

জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ জেলায় ৯৫.৫ শতাংশ প্রসূতি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সন্তান প্রসব করেন। এটাকে ১০০ শতাংশ করাই এখন জেলা প্রশাসনের লক্ষ্য।

চলছে সাইকেলে মাইক লাগিয়ে পাড়ায় পাড়ায় প্রচার অভিযান। বাড়ি বাড়ি গিয়ে চলছে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ। আর এই বিশাল সামাজিক কাজের দায়িত্ব নেওয়া এক ইমাম সাইফুর রহমান বলেন,”এই ধরনের কাজে রাতারাতি হয়ত সাফল্য মিলবেনা। এগুলো দীর্ঘদিনের সমস্যা। তবে প্রশাসনের সঙ্গে সবাই মিলে কাজ করলে সফলতা আসবেই। কার্যত সামাজিক কাজে গ্রামের ইমামেরা যে মাইল ফলক সৃষ্টি করতে চলেছে তা স্পষ্ট।

Comments are closed.