আমার কাছে পেন ড্রাইভ আছে, গরু-কয়লা সব ফাঁস হয়ে যাবে: মোদীকে হুমকি মমতার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজীব গান্ধীর বিরুদ্ধে বফর্স কেলেঙ্কারির অভিযোগ এনে এক সময়ে বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংহ বুক পকেট থেকে একটা ছোট ডায়েরি বের করে ঘন ঘন হুমকি দিতেন।

    ব্যাপারটা যেন অনেকটা সেরকমই। বৃহস্পতিবার বাঁকুড়ার মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একটা ‘পেন ড্রাইভের’ জুজু দেখাতে চাইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    এ দিন সকালে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় সভা করেন মোদী। ওই দুই সভা থেকেই মোদী অভিযোগ করেন, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় কালো সোনা তথা কয়লার বেআইননি খনন করে মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করেছে তৃণমূল। মাফিয়াতন্ত্রকে সরকারের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ করে নিয়েছে বাংলার শাসক দল।

    মোদীর সেই অভিযোগেরই একেবারে নিজস্ব কেতায় জবাব দেন মমতা। বলেন, “কয়লা মন্ত্রক কার অধীনে? দিল্লির সরকারের। তাতে পাহারা দেয় কে? কেন্দ্রীয় বাহিনী। দালালি করে কারা? বিজেপি। তোমার দফতর তোমার অধীনে, আর তৃণমূল কংগ্রেস কয়লা মাফিয়া হয়ে গেল!”

    এর পরেই মোদীকে পাল্টা হুমকি দেন মমতা। বলেন, “আমি আজ চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ছি, তৃণমূলের বিরুদ্ধে কয়লা চুরি প্রমাণ করে দেখান। আমার কাছে একটা পেন ড্রাইভ আছে, আমি যদি বাজারে ছেড়ে দিই তা হলে কিন্তু গরু স্মাগলিং কোল মাফিয়ার অনেক কিছু বেরিয়ে যাবে।”

    তাঁর কথায়, কোনও সংবাদমাধ্যমই তা প্রকাশ করবে না। কারণ, তাদের ভয় দেখিয়ে রেখেছে বিজেপি। নইলে ওই পেন ড্রাইভ তাদের হাতে তুলে দিতে তিনি প্রস্তুত।

    শুধু গরু স্লাগলিং নয়, জনধন প্রকল্প, নোট বাতিল, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি নিয়েও এদিন প্রধানমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তুলতে চান মমতা। সেই সঙ্গে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে বলেন, কয়লা চুরির অভিযোগ প্রমাণ করে দেখাতে পারলে রাজ্যের ৪২টি আসন থেকেই প্রার্থী তুলে নেবেন তিনি।

    বস্তুত বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় তৃণমূলের পর্যবেক্ষক হলেন যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মোদী এ দিন তাঁর নাম না করলেও দুই সভা থেকে বার বার ভাইপোর প্রসঙ্গ তোলেন। কয়লা চুরির অভিযোগ তোলার পাশাপাশি বলেন, দিদি এখন ভাইপোর কেরিয়ার বানাতে ব্যস্ত।

    অনেকের মতে, এ দিন মমতার রেগে যাওয়ার সেটাও হয়তো একটা কারণ। তবে বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, বাংলার মানুষ জানে কারা তোলা তুলছে, আর কারা কয়লা চুরি করছে। কুমিরের কান্নায় আর লাভ হবে না।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More