কেশপুরের পর ঝাড়গ্রাম, শুভেন্দুর জনসংযোগ যাত্রায় উপচে পড়ল ভিড়

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : রবিবার কেশপুর, সোমবার ঝাড়গ্রাম। জনসংযোগ যাত্রা চলছে শুভেন্দু অধিকারীর। জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে পুনরায় ঘাসফুল ফোটাতে তাঁর উপরে যে দায়িত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা পালন করে চলেছেন শুভেন্দু। আর এই মিছিলে উপচে পড়া ভিড় দেখে ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশের আগে স্বস্তির ছবি শাসক শিবিরে।

সোমবার ঝাড়গ্রামের রবীন্দ্রপার্কে দলীয় কর্মীদের নিয়ে ২১ জুলাইয়ের সমর্থনে সভা করেন শুভেন্দু। সভার শেষে কর্মীদের নিয়ে পদযাত্রাও করেন। তারপরে ঝাড়গ্রাম জেলা শাসকের অফিসের সিধু কানু হলে সরকারের বিশেষ পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানেও যোগ দেন পরিবেশ ও পরিবহণমন্ত্রী।

পশ্চিম মেদিনীপুর বহুবার কর্মসূচি করলেও ঝাড়গ্রাম শহরে কর্মীদের নিয়ে এই প্রথম সভা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের বুথ স্তর থেকে শুরু করে জেলাস্তরের সমস্ত ব্লকের কর্মী ও নেতা-নেত্রীরা । এ দিনের সভায় কর্মীদের উপস্থিতি ও তাদের উচ্ছাস ছিল চোখে পড়ার মতো । ভাষণ চলাকালীন হঠাৎই কারেন্ট চলে যায়। কিন্তু গরমের মধ্যেও মেজাজ না হারিয়ে ব্যাটারি দিয়ে মাইক চালিয়ে তিনি ভাষণ শুরু করেন ।

নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, “২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি সফল করতে নেত্রী যে চিঠি লিখেছেন কর্মী ও ভোটারদের উদ্দেশে, সেই চিঠি সবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দেব। বিগত দিনে যেভাবে আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, সে ভাবেই আপনাদের পাশে থাকব।’ শুভেন্দু জানান, তাঁকে এই কাজে সাহায্য করবেন পশ্চিম মেদিনীপুরের নেতা নির্মল ঘোষ।

আগামী ২৩ তারিখ আটটি ব্লকের নেতৃত্বকে নিয়ে আলাদা করে মিটিং করার কথা ঘোষনা করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “কোন ব্লকে কী কী সমস্যা রয়েছে তা আমি জানি। সংগঠনের কোথায় দুর্বলতা রয়েছে, তাও জানি। কোথায় নেতৃত্বকে উপরে তুলতে হয় বা কোথায় নেতৃত্বকে পরিবর্তন করতে হতে পারে, সেটার ধারণা আমার রয়েছে। তবে আপনাদের থেকেও পরামর্শ নেব।” এ দিন ফের সিপিএম-এর উপরেই দায় চাপান শুভেন্দু। তিনি বলেন, “সিপিএমের লোকেরা লাল জামা খুলে গেরুয়া জামা পরে আমাদের লোকেদের উপর সাঁকরাইল, গোপীবল্লভপুর ও নয়াগ্রামে অত্যাচার করছে। আমরা সব জায়গায় নজর রেখেছি। মাথা উঁচু করে গণতান্ত্রিক ভাবে এলাকার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক ভাবে এ সমস্ত জিনিসের মোকাবিলা করব। আমরা মানুষকে সঙ্গে নিয়েই গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক ভাবে নেত্রীর দেখানো পথে উন্নয়ন ও জনসংযোগের মধ্য দিয়ে আমাদের দলকে পুনরায় আগের জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করব।”

এরপরেই সরকারের বিশেষ পরিষেবা মূলক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে লোধা-শবর সম্প্রদায়ের মানুষদের হাতে সরকারি বাড়ির চাবি তুলে দেন শুভেন্দু। মহিলাদের ড্রাইভিং ট্রেনিং-এর সূচনাও করেন পরিবেশ ও পরিবহণমন্ত্রী । এছাড়াও শহরাঞ্চলের মধ্যে যে সকল ব্যক্তিরা সরকারি বাড়ির জন্য অনুমোদন পেয়েছেন তাঁদের হাতে অনুমোদনপত্র তুলে দেন তিনি। এসটি-এসসি ছেলে মেয়েদের হাতে কাস্ট সার্টিফিকেটও তুলে দেন মন্ত্রী। এই অনুষ্ঠানে শুভেন্দু বলেন, “সাধারণ মানুষ যে সব সুবিধে পাচ্ছে, সবই রাজ্য সরকারের দেওয়া। কিন্তু কিছু মানুষ ভুল বোঝাচ্ছে। তারা বলছে, এই অনুদান কেন্দ্রের। ফলে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। যেমন খাদ্য সুরক্ষার আওতায় ২ টাকা কেজি চাল জঙ্গলমহলের মানুষ পান। এটা কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের টাকায় হয় না। রাজ্য সরকার ৭ হাজার কোটি টাকা বাড়তি খরচ করে। যাতে ৮০ লক্ষ মানুষ ২ টাকা কেজি দরে চাল, চিনি, গম পান। এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সরকারের সাহায্যে।”

লোকসভা ভোটের হারের পর ঝাড়গ্রামের দায়িত্ব দেওয়া হয় শুভেন্দু অধিকারীকে। আর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নিজের সাংগঠনিক দক্ষতা কাজে লাগিয়ে এই জেলা পুনরায় উদ্ধারের চেষ্টা করছেন শুভেন্দু। একেবারে তৃণমূল স্তর থেকে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করছেন। এ দিনের মিছিল ও সভা কিন্তু সাংগঠনিক শুভেন্দুর দক্ষতারই পরিচয় দিল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More