রবিবার, অক্টোবর ২০

কেশপুরে শুভেন্দুর মিছিলে ঝড়, বললেন খুনের রাজনীতি চলতে দেব না

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উনিশের লোকসভায় দলের খারাপ ফলের পর এখন জমি পুনরুদ্ধারে মরিয়া তৃণমূল। আর এই কাজে প্রধান অস্ত্র হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুলে ধরেছেন জেলায় জেলায় জনসংযোগ যাত্রাকে। নেতাদের ডেকে দিদি স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, এই জনসংযোগ যাত্রার মাধ্যমেই ফের সাধারণ মানুষের সমর্থন ফিরে পেতে হবে। আর রবিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরে সেচ, জল সম্পদ ও পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে জনসংযোগ যাত্রায় উপচে পড়ল ভিড়। সেই পশ্চিম মেদিনীপুর, যেখানে লোকসভায় ভাগ বসিয়েছে বিজেপি।

রবিবার কেশপুরের সরাই এলাকায় সভা করেন শুভেন্দু। তার আগে করেন মিছিল। আর মিছিলে লোক ছিল চোখে পড়ার মতো। শাসকদলের ঝান্ডা ধরে মেদিনীপুরের ভূমিপুত্রের নেতৃত্বে হেঁটেছেন তাঁরা। মিছিল শেষ সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের বক্তৃতায় দলের কর্মী সমর্থকদেরই মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করলেন শুভেন্দু।

মুখ্যমন্ত্রীর আস্থাভাজন শুভেন্দু বলেন, “এই কেশপুরে ২০০৩ সালে সিপিএম নমিনেশন ফাইল করতে দেয়নি। তৃণমূলের অসংখ্য কর্মী শহিদ হয়েছেন সিপিএম-এর হার্মাদদের হাতে। এখনও সেই বুকের কান্না আমি দেখতে পাই। পুরনো সিপিএম-এর সেই হার্মাদরাই এখন বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে অত্যাচার শুরু করেছে। এই খুনের রাজনীতি আমরা বন্ধ করতে পারব। আপনারা পারবেন, এই বিশ্বাস আমার আছে।”

দলের নেতার একটার পর একটা কথায় যে ভাবে হাততালি পড়ছিল, স্লোগান উঠছিল, তা অবশ্যই আশা জোগাচ্ছে দলকে। কর্মীদের হতাশ না হয়ে, ভয় না পেয়ে কাজ করার কথা বলেছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “হতাশার কোনও কারণ নেই। ভয় পাবেন না। আমরা আপনাদের পাশে আছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনাদের পাশে রয়েছেন। আপনাদের উপর হাত পড়লে আমি আপনাদের পাশে আছি। আজকের সভাই আমরা প্রমাণ করে দিয়েছি, আমাদের এখনও কতটা শক্তি আছে। কোনও আগাম মিটিং বা পথসভা ছাড়াই যে সংখ্যায় মানুষ এসেছেন, তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।”

দেখুন মিছিলের ভিডিও।

 

প্রসঙ্গত, ভোটে ধাক্কা খাওয়ার পরে দলের কর্মীদের মনোবল এতটাই তলানিতে যে দু’সপ্তাহ পরে একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ নিয়েও তেমন প্রস্তুতির ছবি চোখে পড়ছে না। সাম্প্রতিক শাসক দলের নেতামন্ত্রীদের মিটিংয়ে মানুষের উপস্থিতিও চিন্তার উদ্রেক করেছে শাসকদলের অন্দরে। দলের নেতাদের প্রশ্ন, তবে কি দল থেকে মুখ ফেরাতে শুরু করেছেন কর্মী-সমর্থকরা। এই পরিস্থিতিতে এই জনসংযোগ যাত্রাকেই হাতিয়ার করতে বলেছিলেন মমতা। আর সেই কর্মসূচিতেই এ দিন লেটার মার্কস নিয়ে পাশ করলেন শুভেন্দু। তাঁর ডাকে আসা লোকের সংখ্যা কিন্তু এই কঠিন পরিস্থিতিতেও স্বস্তিতে রাখবে দলকে।

Comments are closed.