হাওড়ায় কন্টেনমেন্ট জোনে ঢিলেঢালা নজরদারি, পুলিশের দিকে অভিযোগের আঙুল পুর এলাকার বাসিন্দাদের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ রাজ্যের জেলাগুলির মধ্যে করোনা সংক্রামিতের সংখ্যার নিরিখে একেবারে উপরের দিকে রয়েছে হাওড়া। সংক্রমণ রোধ করা এখানে প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু অভিযোগ উঠছে, শহরাঞ্চলে যথেষ্ট ঢিলেঢালা মনোভাব দেখাচ্ছে পুলিশ।

    সংক্রমণ ঠেকাতে জেলার বিভিন্ন এলাকাকে কন্টেনমেন্ট জোন করা হয়েছে। কিন্তু কয়েক দিন যেতে না যেতেই এই সব এলাকায় পুলিশের নজরদারি একেবারেই ঢিলেঢালা হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ। রাজ্য সরকারের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে কন্টেনমেন্ট জোনে বিশেষ দরকার ছাড়া আসা যাওয়া করা যাবে না। সেখানে ব্যারিকেড সরিয়ে অনায়াসে নিজেদের ইচ্ছে মতো যাতায়াত করছেন লোকজন। বাধা দেওয়ার কেউ নেই। কোনও নজরদারিও নেই বলেও অভিযোগ।

    গত চার দিনে হাওড়ায় করোনায় সংক্রামিত হয়েছেন আটশোর বেশি মানুষ। এই চার দিনে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। এর মধ্যে গত মাসের ৩০ তারিখের রিপোর্টে দেখা গেছে একই দিনে সংক্রমিত হয়েছেন ২৬০ জন। এখনও পর্যন্ত এক দিনে হাওড়ায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হওয়ার নজির এটাই। যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড তৈরি করছে সেখানে খুব স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এই পরিস্থিতিতে পুলিশের ঢিলেঢালা মনোভাব হলে হাওড়ায় কী ভাবে সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব হবে। লোকজনের অসচেতনতা তো রয়েইছে।

    বাস্তব চিত্র বলছে সংক্রামিতের সংখ্যা যতই বাড়ুক না কেন শুধুমাত্র হাওড়া শহরের একাধিক কন্টেনমেন্ট জোনে প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই। কন্টেনমেন্ট জোনগুলি যেন ‘ফস্কা গেরো’। সরকারি তালিকা অনুযায়ী কন্টেনমেন্ট জোনে রয়েছে সীতানাথ বোস লেন, মাধব ঘোষ লেন, উপেন্দ্রনাথ মিত্র লেন, ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র রোড। সব জায়গায় একই ছবি। সরকারি ভাবে এ নিয়ে কেউ কিছু বলতে চাইছেন না। তবে হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রতিটি কন্টেনমেন্ট জোনে ব্যারিকেড করা আছে। মাঝে মধ্যে মাইকিং করে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। তা ছাড়া লকডাউনের দিনগুলোতে জোর নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ।

    শহরে অনেকেই এখনও মাস্ক পরছেন না। সামাজিক দূরত্বের বিধি মানার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না শহরের কোথাও। বাজারগুলিতে নিয়ম করে ভিড় হচ্ছে। দেখে বোঝাই যাচ্ছে না যে বিশ্ব জুড়ে মহামারী চলছে।

    এখনও পর্যন্ত হাওড়ায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৭৭৫০ জন। জেলায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৯৯ জনের। বর্তমানে করোনা পজিটিভের সংখ্যা ১৮৮৭। নতুন করে ১৬০ জন আক্রান্ত হলেও সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২২৭ জন। ফলে মোট করোনামুক্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫,৬৬৪।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More