মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মার গৃহবধূকে, চুল কেটে নিল শ্বশুরবাড়ির লোক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গৃহবধূকে দড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ওই মহিলার মাথার চুলও কেটে নিয়েছে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা।

পাশের গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে মহিলার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করত শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। তার জেরেই এই কাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনা ঘটেছে দেগঙ্গার চাকলা গ্রাম পঞ্চায়েতের রায়কোলা এলাকায়। অভিযোগ উঠেছে রায়কোলা বৈদ্য পাড়ার বাসিন্দা শরিফুল বৈদ্য ও তার পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে খবর, পাশের গ্রামের ওই যুবককেও গাছের সঙ্গে বেঁধে ব্যাপক মারধর করা হয়েছে। যুবকের মাথাও ন্যাড়া করে দিয়েছে শরিফুলের পরিবারের লোকজন।

তবে নির্যাতিতার বাড়ির লোকের অভিযোগ মিথ্যে অপবাদ দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে তাঁদের মেয়েকে। বিয়ের পর থেকেই বাপেরবাড়ি থেকে টাকাপয়সা আনার জন্য স্ত্রীর উপর চাপ দিত শরিফুল। অভিযোগ, সেসব না পেয়েই এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন শরিফুল এবং তাঁর পরিবার। গোটা ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তারও অভিযোগ তুলেছেন নির্যাতিতার পরিবার। পাশাপাশি তাঁদের দাবি স্থানীয় প্রশাসন গোটা ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এমনকি তালাকনামাতেও নাকি স্ত্রীকে দিয়ে জোর করে সই করিয়ে নিয়েছেন শরিফুল, এমনটাই অভিযোগ ওই মহিলার পরিবারের।

জানা গিয়েছে, কয়েকদিন হাসপাতালে থাকার পর আপাতত খানিকটা সুস্থ রয়েছেন নির্যাতিতা মহিলা। শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও দায়ের করেছেন তিনি। যদিও পুরো ব্যাপারটাই অস্বীকার করেছেন শরিফুল। তাঁর দাবি, পাশের গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক ছিল তাঁর স্ত্রীর। কয়েকবার নিজের বাড়িতে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে দু’জনকে ধরেও ফেলেছিলেন তিনি। শরিফুলের পাল্টা অভিযোগ, ঘটনার দিন দুই মেয়েকে ফেলে দিয়ে ওই যুবকের সঙ্গে পালিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁর স্ত্রী। সে সময় গ্রামবাসীদের হাতে ধরা পড়েন তাঁরা। এরপর যা করার গ্রামের লোকেরাই করেছে বলে দাবি করেছেন শরিফুল।

Comments are closed.