বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

শরীরে আদৌ সাড় ফিরবে ভাবেননি অসীমবাবু, আজ সুস্থ হয়ে অটো চালাচ্ছেন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ বছর আগে হুগলির প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রায় মরতে বসেছিলেন অসীম বর্মন। যদিও বা প্রাণটি শুধু ধিকধিক করছিল। কিন্তু বাস্তবে পুরো শরীর অসাড় হয়ে গিয়েছিল। বিছানা ছেড়ে কোনওদিন উঠতে পারবেন তা ভাবেননি। সেই তিনি এখন জীবন যুদ্ধে নিজেকে সামিল করেছেন অটো চালিয়ে।

কৃতজ্ঞতা জানাতে ছুটে এসেছেন পার্ক সাকার্স-এ মেডিক্যাল রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের ১৮তম জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানে সামিল হতে। এখানেই তিনি ভর্তি ছিলেন প্রায় আড়াই মাস। অনুষ্ঠানের শুরুতেই এই সংস্থার কর্ণধার বিশিষ্ট নিউরো-রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ ডাঃ মৌলিমাধব ঘটককে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন অসীমবাবু। এমন ঘটনা অরুণাংশু রায়েরও হয়েছিল। ব্রেন স্ট্রোক এর পর জীবনের সব আশা প্রায় বিসর্জন দিয়েছিলেন তিনি। তিনিও সুস্থ হয়ে আজ এমন অনুষ্ঠানে এসে আনন্দে চোখের জল মুছছিলেন সবারই অজান্তে।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে এই দিনটিতেই এই মেডিক্যাল রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারটি গড়ে উঠেছিল ডাঃ ঘটকের তত্ত্ববধানে পুরোপুরি, বেসরকারি উদ্যোগে। যা শুধু বাংলা নয়, পূর্বভারতে প্রথম। সেন্টারের বয়স মাত্র কুড়ি বছর হলেও এখানে এসে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এমন রোগীর সংখ্যা ৩০ হাজারও ছাড়িয়ে গেছে। “এখানে রেখে বা আউটডোর চিকিৎসার সুফলে বেশিরভাগ রোগীই তাঁদের স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরে যেতে পেরেছেন”—–গর্বের সঙ্গে জানালেন ডাঃ ঘটক।

এমন বর্ণময় অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী, সাঁতারু বুলা চৌধুরী। এছাড়াও ছিলেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও সমাজসেবী ব্যক্তিত্বরা।

অনুষ্ঠানের শেষে দেখা গেল অভাবনীয় একটি দৃশ্য। যেখানে সুস্থ হয়ে ফিরে যাওয়া মানুষজন জড়িয়ে ধরেছেন এখানে সুস্থ হতে আসা রোগীদের। যে রোগীরা আবারও ভোরের আলোয় আলোকিত হতে চান। আনন্দে তাঁদের দু’চোখের জলই বলে দিল অনেক কথা।

Comments are closed.