করোনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব থেকে বিভ্রান্তি, পদক্ষেপ কাটোয়া পুরসভার, ডেকে সতর্ক করা হবে অভিযুক্তদের

বেশ কয়েকটি ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজে কাটোয়ার ৫, ১০, ১২, ১৪, ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ড সিল করার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার লোকজন তাতে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। অনেকে শঙ্কিত হয়ে পড়েন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড সিল করে দেওয়া নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবর ছড়ানোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করল কাটোয়া পুরসভা। আপাতত পুরসভা থেকে একটি হেল্পলাইন নম্বর দিয়ে বলা হয়েছে পুর এলাকায় করোনা সংক্রান্ত কোনও ‘খবর’ শুনলে তা যেন যাচাই করে নেন পুরবাসীরা। পাশাপাশি অভিযুক্তদের ডেকে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি পুলিশকেও জানানো হয়েছে।

কাটোয়া পুরসভার অন্তর্গত আদর্শপল্লিতে গত বুধবার দিল্লি থেকে আগত এক পরিযায়ী শ্রমিকের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। রিপোর্ট আসার সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য দুর্গাপুর কোভিড হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেই সঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় সচেতনতা মূলক প্রচার করা হয়। পুরসভা ওই এলাকাটিকে জীবাণুমুক্ত করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১১ নম্বর ওয়ার্ডে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

গত বুধবারের পর বেশ কয়েকটি ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজে কাটোয়ার ৫, ১০, ১২, ১৪, ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ড সিল করার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার লোকজন তাতে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। অনেকে শঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিষয়টি কাটোয়ার পুরপ্রধান তথা বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের নজরে এলে তিনি জানান ঘটনাটি সত্য নয়। তিনি বলেন, “কাটোয়ার আদর্শপল্লিতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য কোভিড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং ওই এলাকায় লাল সতর্কতা জারি করে সিল করা হয়েছে। এরপরে কাটোয়ার ১০, ১২, ১৭, ১৪, ৫ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডকে বাফার জোন ঘোষণা করেছেন পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক।”

সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী বাফার জোনে একসঙ্গে চার জন বা তার বেশি লোকের জটলা ও জমায়েত ছাড়া সরকার নির্দেশিত সমস্ত রকম কাজ করা যাবে। রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের ভুয়ো খবর ছড়িয়ে যারা ছড়াচ্ছে তারা দেশের শত্রু। তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা করা হবে।” সাধারণ মানুষেকে করোনা নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে করোনা সম্পর্কিত যেকোনো প্রয়োজনে পুরসভার হেল্প লাইন নম্বরে কিংবা কাটোয়া থানার সঙ্গে যোগাযোগ করতে তিনি পরামর্শ দেন।

আগেও কাটোয়া এই ধরনের গুজব ছড়িয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। তখন ফেসবুক গ্রুপের অ্যাডমিনদের ডেকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। তারপর থেকে কোনও গ্রুপে আর এসব ছড়াচ্ছে না তবে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে গুজব ছড়াচ্ছে। সেসব পোস্টের স্ক্রিন শট নিয়ে রেখেছে পুরসভা। তারা সেগুলি পুলিশের কাছে পাঠিয়ে বিষয়টি মৌখিক ভাবে জানিয়ে রেখেছে। তবে এখনও পর্যন্ত সাইবার ক্রাইম সেলে এব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করা হয়নি।

পুরসভা ও কাটোয়া থানা সূত্রে জানা গেছে অভিযুক্তদের বয়স ১৫ বছর থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। অধিকাংশই কলেজ পড়ুয়া। তাই তাদের ডেকে পাঠিয়ে সাবধান করে দেওয়া হবে। এখনই তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ না করার ভাবনাই রয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More