‘লোকাল ট্রেন কিনতে চাই’, হুহু করে লোক ঢুকছে মস্করা-প্রতিবাদে

গত ৩ জুলাই সন্ধের পর তৈরি হওয়া একটি ফেসবুক গ্রুপের সদস্যা সংখ্যা ১১ জুলাই সন্ধে পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজারের বেশি। হ্যাঁ, প্রায় ফিফটি সেভেন কে!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: আট দিনে ৫৭ জাহার সদস্য!

    নাহ, কোনও রাজনৈতিক দলের ডিজিটাল মেম্বারশিপ গ্রহণের সংখ্যা নয়। গত ৩ জুলাই সন্ধের পর তৈরি হওয়া একটি ফেসবুক গ্রুপের সদস্যা সংখ্যা ১১ জুলাই সন্ধে পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজারের বেশি। হ্যাঁ, প্রায় ফিফটি সেভেন কে!

    গ্রুপের নাম ‘লোকাল ট্রেন কিনতে চাই।’

    কয়েকজন তরুণ মিলে এই গ্রুপ তৈরি করেছিলেন ৩ জুলাই। সেদিনই বেসরকারি ক্ষেত্রের জন্য রেলের দরজা খুলে দেওয়ার বিষয়টি জানা গিয়েছিল। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই গ্রুপ তৈরি করেছিলেন ওই তরুণরা। সরাসরি রাজনীতির কথা নয়, অথচ রাজনৈতিক ইস্যুতেই কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের সমালোচনার উদ্দেশে তৈরি হয়েছে এই গ্রুপ। একথা বলছেন গ্রুপের অ্যাডমিনরাই। সেই গ্রুপে হুহু করে যোগ দিচ্ছেন তরুণ-তরুণীরা। কার্যত আট দিনেই অ্যাডমিনদের উদ্দেশ্য সফল হয়ে গিয়েছে। তাঁরা চেয়েছিলেন এই ডিজিটাল মঞ্চ থেকে মস্করার মাধ্যমে প্রতিবাদ হোক। স্যাটায়ার ধর্মী পোস্টকেই গুরুত্ব দিয়েছিল অ্যাডমিন প্যানেল। দেখা যাচ্ছে, সেই মস্করা যত দিন যাচ্ছে তত তির্যক হচ্ছে। আক্ষরিক অর্থেই এই গ্রুপ যেন ‘বিশ্ববাংলা’ হয়ে উঠেছে। মস্করাতে যোগ দিচ্ছেন বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরাও।

    কেউ লিখছনে, “দুটো ব্যান্ডেল লোকাল পার্সেল করে দেবেন?” কেউ আবার ট্রেনে এয়ার হোস্টেস রাখতে চেয়ে বেলা বোসের (টু ফোর ফোর ওয়ান ওয়ান থ্রি নাইন) ফোন নম্বর দিয়ে দিচ্ছেন। একজন লিখেছেন, “বনগাঁ লোকালের হোম ডেলিভারি পেয়ে গিয়েছি। এবার জানলার ধারের সিট রাখার জন্য একজন রুমাল ফেলার লোক ভাড়া করতে হবে।” এক তরুণ আবার জানিয়েছেন, তিনি অনেক কিলোমিটার রেল লাইন কিনে ফেলেছেন। এবার সেটা ভাড়া দেবেন। সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশেও টিপ্পনিও কেটেছেন কেউ কেউ। অখিলেশ মাজি নামের এক যুবক লিখেছেন, “আচ্ছা আমি যদি লোকাল ট্রেন কিনি, মোদীজি কি আবার ট্রেনে চা বিক্রি করবেন?” লেখার পাশাপাশি মিমেরও ছড়াছড়ি। একটি ছবিতে ফটোশপের কারুকার্য করে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে দাঁড়িপাল্লা। আর তাতে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে আস্ত একটা লোকাল ট্রেন! দেখা যাচ্ছে ওজন দেখে ওই লোকালটি কিনবেন বলে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ক্রেতারা।

    এই গ্রুপের অন্যতম অ্যাডমিন রাজদীপ বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “মানুষের এইরকম সাড়া পাব ভাবিনি। প্রতি মিনিটে শয়ে শয়ে মানুষ যুক্ত হচ্ছেন গ্রুপে।” কিন্তু কেন তাঁরা আসছেন? পড়ুয়া রাজদীপের কথায়, “রেল এদেশের গণপরিবহণের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে লোকাল ট্রেন। কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে মানুষ ভাল ভাবে নিচ্ছে না বলেই এ ভাবে ব্যঙ্গ, বিদ্রুপ, টিপ্পনিতে ভরে যাচ্ছে গ্রুপ। আসলে তাঁরা কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করছেন, তবে অন্য ভাবে।”

    মানুষের উৎসাহ দেখে আরও পরিকল্পনাও করছে ‘লোকাল ট্রেন কিনব’র অ্যাডমিন প্যানেল। আলাদা আলাদা ইভেন্ট করে ট্রেন সফরের অভিজ্ঞতা-সহ নানান বিষয় নিয়ে উদযাপন চালিয়ে যেতে চান তাঁরা। উদ্দেশ্য একটাই, প্রতিবাদ। তার কোনওটা হবে ভেন্ডার নিয়ে, কোনওটা হয়তো লেডিস কামরা নিয়ে। তবে এগুলো এখন পরিকল্পনা স্তরে।

    লকডাউন পর্বের শুরু থেকে অনেক গ্রুপ তৈরি হয়েছে ফেসবুকে। তার মধ্যে ‘আইসোলেটেড আড্ডা’ ও ‘চল ভাই ভাই ক্রাশ খাই’ নামের দুটি গ্রুপ বেশ জনপ্রিয়ও হয়েছে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। কিন্তু লোকাল ট্রেন কিনতে চাওয়ার গতি যেন বুলেট ট্রেনের গতিকেও হার মানিয়ে দিচ্ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More