শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৪

গেরুয়া রথযাত্রায় আদালতের লাল সিগন্যাল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজোর পর থেকেই রথযাত্রার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল বঙ্গ বিজেপি। কিন্তু যাত্রা শুরুর আগের দিন আদালত গ্রিন সিগন্যাল দিল না গেরুয়া শিবিরকে। ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত রথযাত্রায় স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার সকালে মুখবন্ধ খামে হাইকোর্টে রিপোর্ট জমা দেন কোচবিহারের পুলিশ সুপার। সেই রিপোর্টে স্পষ্ট করে বলা হয়, প্রশাসনের তরফে এই রথযাত্রার অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, রথযাত্রা থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আঘাত আসতে পারে। এ ব্যাপারে গোয়েন্দা রিপোর্টের কথাও জানানো হয় আদালতে। সব দিক বিবেচনা করে হাইকোর্ট রথযাত্রায় না করে দেয়।

আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে স্বভাবতই গেরুয়া শিবিরে খানিকটা হতাশা রয়েছে। আগে ‘রথযাত্রা করবই’ বললেও বুধবার বিকেলে কোচবিহার থেকে বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “কী করা হবে তা আমরা বসে ঠিক করব।” কিন্তু রথযাত্রা কি হবে? উত্তরে খড়্গপুরের বিধায়ক বলেন, “হতেও পারে আবার না-ও হতে পারে।” পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বিজেপি-র পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়ও বলেন, “ প্রয়োজনে এই রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাব।” সুপ্রিম কোর্টে গেলেও বিষ্যুদবারের রথযাত্রা হওয়া নিয়ে ঘোর সংশয় তৈরি হলো। 

গত ২৯ অক্টোবর রাজ্য প্রশাসনের কাছে তিনটি রথযাত্রার অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছিল বিজেপি। হ্যাঁ অথবা না, প্রশাসনের তরফে কিছু না জানতে পেরে গত ৩ ডিসেম্বর কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় গেরুয়া শিবির। বুধবার সেই মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী বলেন, কোচবিহার জেলা প্রশাসন, জেলা বিজেপি-র নেতাদের সঙ্গে বসে নিরাপত্তার খুঁটিনাটি বিষয়গুলি আলোচনা করে নিক। আপত্তি জানিয়ে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন, এটা শুধু কোচবিহার জেলার ব্যাপার নয়। রথযাত্রা ঘুরবে রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্র দিয়ে। তাই এটা সামগ্রিক রাজ্য প্রশাসনের ব্যাপার। গতকাল আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যকে অবস্থান জানাতে। এ দিন সকাল থেকেই শুরু হয় সওয়াল-জবাব। বিকেলের পর রায় দেয় বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর সিঙ্গল বেঞ্চ।

যদিও এ দিন সন্ধে বেলাই জয়প্রকাকশ মজুমদারের নেতৃত্বে বিজেপি-র একটি প্রতিনিধি দল প্রধানবিচারপতি দেবাশিস করগুপ্তর চেম্বারে গিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির আবেদন জানান। জয়প্রকাশ মজুমদারের দাবি, প্রধান বিচারপতি বলেছেন, শুক্রবার সকালেই মামলার শুনানি হবে। জানা গিয়েছে প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চে সিঙ্গল বেঞ্চের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করবে বিজেপি।

Shares

Comments are closed.