মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

হাওড়া কাণ্ড: ডিজি, স্বরাষ্ট্র সচিব-সহ একাধিক প্রশাসনিক কর্তার হলফনামা তলব হাইকোর্টের  

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়া কোর্টের আইনজীবী এবং হাওড়া কর্পোরেশনের অস্থায়ী কর্মীদের খণ্ডযুদ্ধের ঘটনায় পদক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রাধাকৃষ্ণন এবং বিচারপরি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চে এই হাওড়া কাণ্ড নিয়ে মামলার শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, গত বুধবারের ঘটনা নিয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব, ডিজি, হাওড়া কোর্টের জজ এবং হাওড়ার পুলিশ সুপারকে ব্যক্তিগত হলফনামা জমা দিতে হবে। আগামী বুধবারের মধ্যে জমা দিতে হবে এই হলফনামা। বুধবার ফের এই মামলার শুনানি।

এ দিন হাওড়া কাণ্ড খতিয়ে দেখার জন্য একটি বিচারবিভাগীয় কমিটিও গঠন করে দেয় প্রধান বিচারপরতির বেঞ্চ। সেই সঙ্গে আইনজীবীদের কাছে আদালত আবেদন করেছে, স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করার জন্য।

বুধবার সকাল সাড়ে দশটা থেকে সন্ধে সাড়ে পাঁচটা। সাড়ে সাত ঘণ্টা ধরে চলে উকিল-পুরকর্মী সংঘর্ষ। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেও ফিরে যান রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায়। আইনজীবীরা ঘিরে থাকেন কর্পোরেশন দফতর। দফায় দফায় চলে ইটবৃষ্টি। কর্পোরেশনের ভিতর আটকে পড়েন কয়েক হাজার কর্মী। অসংখ্য সাধারণ মানুষ যাঁরা পুর দফতরে নিজেদের কাজের জন্য এসেছিলেন, তাঁরাও আটকে পড়েন। কর্পোরেশনের দুটি গেটই অবরুদ্ধ করে রাখেন আইনজীবীরা।

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ। প্রথমে কর্পোরেশনের পার্কিং লটে ঝামেলার সূত্রপাত। তা থেকে শুরু হয় বচসা। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা হাতাহাতির পর্যায় পৌঁছে। এবং শেষমেশ খণ্ডযুদ্ধ। উকিলরা ঢুকে পড়েন কর্পোরেশনে। পুরকর্মীদের সঙ্গে শুরু হয় মুখোমুখি সংঘর্ষ। রক্তাক্ত হন বেশ কয়েক জন আইনজীবী। আহত কর্পোরেশনের কর্মীরাও। আহত এক মহিলা পুরকর্মীকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স হাওড়া হাসপাতালের দিকে রওনা দিলে, সেই অ্যাম্বুলেন্সের চাবি কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে।

পরের দিন থেকেই কর্মবিরতি শুরু করেন আইনজীবীরা। স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা রাজ্যের আদালত। বার কাউন্সিল জানিয়ে দেয় সোমবার পর্যন্ত চলবে কর্মবিরতি। এ দিন বিকেলে বৈঠকে বসে বার কাউন্সিল। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ২ মে পর্যন্ত চলবে কর্মবিরতি। ফের ২ তারিখ বিকেলে বৈঠকে বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বার কাউন্সিল।

Comments are closed.