বৃহস্পতিবার, মে ২৩

আচমকাই রেললাইনে উঠে পড়লো হাতির দল, তারপর……

দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: রেললাইনে ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যু নতুন ঘটনা নয়। মাঝে মাঝে মর্মান্তিক ভাবে মৃত্যু হয় হাতিদের। তবে আজকাল নিয়ম করে রেলের কর্মীদের রেললাইনে হাতি দেখলে কী করা উচিত সে ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তারই ফলস্বরূপ সম্প্রতি ট্রেনের চালক এবং সহ-চালকের তৎপরতায় বেঁচে গিয়েছে প্রায় ১০ থেকে ১২টি হাতির একটি দল। সেই সঙ্গে বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে আলিপুরদুয়ার জংশন থেকে শিলিগুড়িগামী সকালের ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসও।

আলিপুরদুয়ার জংশন থেকে বুধবার সকালে ট্রেন ছাড়ার খানিকক্ষণ পরেই পানিঝোরা এলাকায় রেল লাইনে ১০ থেকে ১২টি হাতির পাল দেখতে পান ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসের চালক সুধাকর শর্মা ও সহ-চালক এম এস রাও। দূর থেকে হাতির দল দেখেই এমার্জেন্সি ব্রেক কষে ট্রেন দাঁড় করিয়ে দেন তাঁরা। প্রায় ৫ মিনিট ট্রেনটি সেখানেই দাঁড়িয়েছিল। তারপর হাতির পাল নিরাপদে ট্রেন লাইন পার হয়ে জঙ্গলে ঢুকে পড়ায় ফের ট্রেন ছাড়েন চালক। সঠিক সময়ে ব্রেক কষে ট্রেন দাঁড় করানোর ফলেই এ দিন বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যায় হাতির পাল।

রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, ট্রেনের চালক ও সহ-চালককে পুরস্কৃত করবে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশন। আলিপুরদুয়ারের ডি আর এম চন্দ্রবীর রমন বলেন, “এটা খুবই আনন্দের যে, আমাদের ট্রেনের চালক ও সহ-চালকের সঠিক সিদ্ধান্তে ১০ থেকে ১২টি হাতির প্রাণ বেঁচে গিয়েছে। সেই সঙ্গে বড় সড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে ট্রেনও। আমরা চালক ও সহ-চালককে পুরস্কৃত করবো।”

বুধবার সকালে রাজাভাতখাওয়া এবং আলিপুরদুয়ার জংশনের মাঝে ঘটে এই ঘটনা। ট্রেনের চালকদের তৎপরতায় খুশি বন দফতরের কর্তা এবং কর্মীরাও। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা শুভংকর সেনগুপ্ত বলেন, “অত্যন্ত ভালো কাজ করেছেন রেলের চালক ও সহ-চালক। ওঁদের ভূমিকায় আমরা খুব খুশি। রেললাইনে হাতির মৃত্যু ঠেকাতে রেল ও ফরেস্টের যৌথ প্রয়াসের ফলেই এটা সম্ভব হয়েছে।”

Shares

Comments are closed.