বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

নাগাড়ে বৃষ্টিতে জল থইথই কলকাতা থেকে জেলা, আরও ৪৮ ঘণ্টা চলবে দুর্যোগ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নবমী এবং দশমীতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হলেও একাদশীর ভোররাত থেকেই নাগাড়ে চলছে বর্ষণ। বেহাল দশা দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলার। বাদ যায়নি কলকাতা এবং সংলগ্ন অঞ্চলও। নাগাড়ে বৃষ্টিতে জল থইথই অবস্থা কলকাতার। জল জমেছে ঠনঠনিয়া সহ উত্তর কলকাতার একাধিক অংশে। এ ছাড়াও জল জমেছে ধর্মতলা এবং চাঁদনি চক এলাকাতেও। বিভিন্ন জায়গায় জল জমার ফলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে যানজট। তার মধ্যে আজ বিসর্জনের ব্যাপার থাকায় সন্ধের দিকে সাময়িক ভাবে শহরের বুকে তীব্র যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে উপকূলের জেলাগুলিতেও। পুজোর পর দিঘা ঘুরতে গিয়ে বৃষ্টির দাপটে আনন্দ পণ্ড হয়েছে পর্যটকদের। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টা চলবে দুর্যোগ।

বুধবার সকাল থেকেই মেঘলা রয়েছে আকাশ। সঙ্গে চলছে মুষলধারে বর্ষণ। মাঝে মাঝে বিরতি দিলেও ফের ঝেঁপে নামছে বৃষ্টি। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, দু-একপশলা নয় বৃহস্পতিবারও ভারী বৃষ্টি হবে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। বজ্রবিদ্যুৎ সহ ভারী বৃষ্টির জের কমতে পারে শুক্রবার থেকে। সপ্তাহ শেষ রোদঝলমলে দিন দেখতে পাবেন দক্ষিণবাসী, পূর্বাভাস আবহাওয়া দফতরের। তবে শুক্রবার পর্যন্ত বৃষ্টি চলবে বলেই পূর্বাভাস আবহবিদদের। বৃহস্পতিবারের পর হয়তো কমতে পারে বৃষ্টির দাপট। আজ শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসসিয়াস।

সাধারণত ১৫ অক্টোবর নাগাদ পাকাপাকি ভাবে বাংলা থেকে বিদায় নেয় বর্ষা। তবে চলতি বছর নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেকটাই দেরিতে বঙ্গে এসেছে বর্ষা। তাই ইনিংস শেষে মেজাজে রয়েছে সক্রিয় মৌসুমি বায়ু। সঙ্গে দোসর ঘূর্ণাবর্ত। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, ওড়িশা থেকে উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে একটি নিম্নচাপ বলয়। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপরেই মূলত এর অবস্থান। এর জেরে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে ঘূর্ণাবর্ত। এ ছাড়া ওড়িশা ও সংলগ্ন এলাকা এবং উত্তরবঙ্গে জোড়া ঘূর্ণাবর্তে জেরে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে রাজ্যে। আর এই সবের জেরেই একাদশীর সকাল থেকেই ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং পুর্ব মেদিনীপুরে বুধবার বিকেলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

Comments are closed.