শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

হেড মাস্টারের ডাকে স্কুলে নাপিতরা, ছেলেদের চুলে আর স্টাইল নয়

দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ: মাথার মাঝের চুল বড়। কিন্তু কানের পাশ দিয়ে এক দম ছোট ছোট হয়ে ঘাড়ের কাছে এসে যখন মিশছে তখন ‘v’ শেপ। দু’পাশ ক্ষুর দিয়ে সাফ করা। কারও আবার মাথার চুলে তিনটি স্তর। কেউ কেউ আবার এমন চুল কাটিয়েছে, দূর থেকে দেখে মনে হবে মাথার উপর দিয়ে সাপ যাচ্ছে। কারও আবার ঘাড়ের কাছে হলুদ, সবুজ রঙ।

এটা কোনও ফ্যাশন শোয়ে মডেলদের চুলের স্টাইল নয়। মুর্শিদাবাদের নিউ ফারাক্কা হাইস্কুলের ছাত্রদের অনেকেই নাকি আজব আজব ডিজাইনের চুল কেটে স্কুলে আসছিল। গত ১৭ জুলাই এই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়েছেন মনিরুল ইসলাম। তাঁর চোখে পড়তেই বিষয়টি নিয়ে কোমর বেঁধে নামেন তিনি। আর ছাত্রদের চুলের স্টাইল ঠিক করতে প্রধান শিক্ষকের অনুরোধে স্কুলে ছুটে আসতে হল স্থানীয় থানার আইসি, স্কুল পরিদর্শক, অভিভাবকদের। এমনকী ফারাক্কা এলাকার তাবৎ নাপিতদেরও। প্রধান শিক্ষকের বার্তা একটাই, সবাইকে এক হয়ে স্কুলের ছাত্রদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। এ সব বরদাস্ত করা যাবে না।

কিন্তু মারধর নয়। একেবারে কাউন্সেলিং করিয়ে ছাত্রদের পথে আনতে চান প্রধান শিক্ষক। তাঁর আবেদনে স্কুলে এসেছিলেন ফারাক্কা থানার আইসি উদয়শঙ্কর ঘোষ। এই পুলিশ আধিকারিক বলেন, “এমন জিনিস কখনও দেখিনি। এটা একটা ইউনিক উদ্যোগ।” যাঁরা চুল কেটে দেন, সেই নাপিতরাও একমত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে। কিন্তু তাঁরা জানিয়েছেন অন্য এক বিড়ম্বনার কথা। এক সেলুন মালিকের বক্তব্য, “আমরা তো চাই না ওই ধরনের ডিজাইন করে চুল কেটে দিতে। কিন্তু ছেলেপুলেদের উৎপাতে টিকতে পারা যায় না। ফোনে ছবি দেখিয়ে বলে, এ ভাবেই কাটতে হবে। এমন নাছোড়বান্দা তারা যে, না কেটে উপায় নেই।” তবে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বৈঠকের পরে নাপিতরাও এককাট্টা। ওই ভাবে আর চুল কাটা হবে না স্কুল ছাত্রদের। তবে নাপিতদের সংগঠন ওই বৈঠকে জানিয়েছেন, তাঁদের উপর যেন কোনও হাঙ্গামা না হয়, সেটা যেন দেখে পুলিশ প্রশাসন।

ওই স্কুলের ক্লাস নাইনের ছাত্র সুজন হালদার বলে, “স্যার যা বলেছেন ঠিকই বলেছেন। ওই ভাবে চুল কেটে স্কুলে আসা উচিত নয়। আমরা সবাই বন্ধুদের বলব ভদ্র ভাবে যাতে চুল কাটে।” স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনিরুল সাহেব জানিয়েছেন, “এরপর অভিভাবকদের সঙ্গেও কথা বলব। ছাত্রদের মধ্যে শৃঙ্খলা আনতে এটা আটকাতেই হবে।”

খেলার মাঠে চুলের স্টাইল করা নিয়ে কলকাতা ময়দানে সবাই সমঝে চলতেন দ্রোণাচার্য সইয়দ নইমুদ্দিনকে। একবার কাশ্মীরি ফুটবলার মেহেরাজউদ্দিন ওয়াদু চুলে একাধিক রঙ করে অনুশীলনে নামায়, মাঠ থেকে বার করে দিয়েছিলেন। একেবারে মিলিটারি শাসন। কিন্তু স্কুলে এমন গণ হেয়ার স্টাইল, তা বোধহয় আগে কখনও হয়নি। আর এ ধরনের তৎপরতাও দেখা যায়নি। তবে স্কুল পরিদর্শক থেকে পুলিশ, নাপিত—সকলেই তারিফ করছেন প্রধান শিক্ষকের ভূমিকাকে।

 

Comments are closed.