শুক্রবার, ডিসেম্বর ৬
TheWall
TheWall

রুমাল দিয়ে বাঁধা হাত-পা, দিঘার হোটেল থেকে উদ্ধার তরুণীর ঝুলন্ত দেহ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিঘার হোটেল থেকে উদ্ধার হয়েছে তরুণীর ঝুলন্ত দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম পিয়ালী দেড়ে। বছর ২০-র ওই তরুণী ডানকুনির ক্ষুদিরাম পল্লীর বাসিন্দা। দেহ উদ্ধারের সময় তরুণীর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মৃতার পরিবার জানিয়েছে, গত ১০ নভেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না পিয়ালীর ৪ বছরের ছেলেকেও। পুলিশকে মৃতার বোন জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ১২ নভেম্বর রাতে রাতে তাঁকে মেসেজ করেছিলেন পিয়ালী। জানিয়েছিলেন এক যুবকের সঙ্গে দিঘায় গিয়েছেন তিনি। পিয়ালীর বোনের কথায়, “দিদি বলেছিল যার সঙ্গে দিঘা গিয়েছে সে ভালো নয়। ও হয়তো আর বাঁচবে না। তার ছেলেকে যেন দিঘার হোটেল থেকে নিয়ে আসি আমরা।“

এরপরেই ডানকুনি থানায় যায় পিয়ালীর পরিবার। ততক্ষণে দিঘা থানা থেকে খবর এসে গিয়েছে যে একটি হোটেল থেকে উদ্ধার হয়েছে পিয়ালীর ঝুলন্ত দেহ। মৃতার পরিবারের অভিযোগ খুন করা হয়েছে পিয়ালীকে। প্রাথমিক তদন্তে তেমনটাই অনুমান পুলিশেরও। কারণ ঝুলন্ত অবস্থায় রুমাল দিয়ে হাত-পা বাঁধা ছিল পিয়ালীর। পুলিশ জানতে পেরেছে সিঙ্গুরের বারুইপাড়া এলাকার এক যুবকের সঙ্গে দিঘায় গিয়েছিলেন পিয়ালী। তবে ওই যুবকের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। এমনকি পিয়ালীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কই বা কী সেটাও জানা যায়নি। অজ্ঞাতপরিচয় ওই যুবকের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। হোটেলকর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই দিঘায় পৌঁছেছে পিয়ালীর স্বামী এবং পরিবারের বাকি সদস্যরা।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে ঘটনার দিন হোটেলের ঘরের সামনে খেলা করছিল পিয়ালীর ৪ বছরের ছেলে। খোলাই ছিল রুমের দরজা। সন্দেহ হওয়ায় এক হোটেলকর্মী এগিয়ে এসে দরজা ঠেলতেই তাঁর নজরে আসে পিয়ালীর ঝুলন্ত দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, নিজে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেননি পিয়ালী। কারণ হাত-পা বাঁধা ছিল তাঁর। বিছানার উপরে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে পিয়ালীর দেহ। বিছানার তোষক সরানো ছিল। ওই তোষক ঠিক জায়গায় থাকলে মাটিতে পা থাকত পিয়ালীর। তদন্তকারী অফিসারদের অনুমান, শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে পিয়ালীকে। ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে দেহ। রিপোর্ট হাতে পেলেই পিয়ালীর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Comments are closed.