আমায় অনেকে বলেছেন, এখানেও গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হচ্ছে: ফোন ট্যাপ নিয়ে রাজ্যপাল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: কালীপুজোর সন্ধেবেলা হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির উঠোনে তাঁর উপস্থিতি দেখে অনেকেই বলেছিলেন—তাহলে কি সরকার আর রাজভবনের সংঘাতের অবসান হতে চলেছে? কালীপুজো শেষ করে সবেমাত্র জগদ্ধাত্রী পুজোর সপ্তমী, এর মধ্যেই রবিবার ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্নে ঘুরিয়ে রাজ্যের দিকে আঙুল তুললেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।

    এদিন একবালপুরে মাড়োয়ারি মহিলা সমিতির অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাজ্যপাল। সেখানেই তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপ ও ফোন ট্যাপ নিয়ে যে রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে সে ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর ফোনও ট্যাপ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী কোন তথ্যের ভিত্তিতে বলেছেন আমি জানি না। তবে আমার কাছে বিভিন্ন ক্ষেত্রের অনেক বড় বড় মানুষ দেখা করতে এসে বলেছেন, এখানে তাঁদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হচ্ছে।”

    একইসঙ্গে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে রাজ্যপাল বলেন, “আপনারা তো সাংবাদিক। অনেক খোঁজ খবর রাখেন। আপনাদের কি এখানে স্বাধীনতা আছে? যদি থাকে, তাহলে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। আর যদি মনে করেন তা নেই, তাহলে কিছু করুন।”

    আরও পড়ুন: দিদির বাড়ির কালীপুজোয় সস্ত্রীক রাজ্যপাল! সৌজন্যের ছবিতেও রয়ে গেল সংশয়

    রাজ্যপালের এই বক্তব্যের জবাব দিতে বেশি সময় নেয়নি বাংলার শাসকদল। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “রাজ্যপালের পদটা একটা সাংবিধানিক পদ। কিন্তু দুর্ভাগ্য হল এই যে, উনি রাজনৈতিক মুখপাত্রের মতো কথা বলছেন।” একই সঙ্গে পার্থবাবুর বক্তব্য, “কারা রাজ্যপালকে একথা বলেছেন, সেই তালিকা প্রকাশ করুন।”

    শনিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “এটা খুবই চিন্তার বিষয়। আমার ফোন ট্যাপ করা হচ্ছে। আমি সেটা বুঝতেও পারছি। সব কিছুতেই নজরদারি চালানো হচ্ছে। এটা ঠিক নয়। সরকারি কাজকর্ম করতে ব্যাঘাত ঘটছে।” তিনি আরও বলেন, “এটা ঘটনা যে, ইজরায়েলের এনএসও সংস্থা ফোন ট্যাপ করার ওই সফটওয়্যার কেন্দ্রকে দিয়েছে। এর সঙ্গে দুটি রাজ্যের সরকারও যুক্ত আছে। আমি তাদের নাম বলব না। কিন্তু তারমধ্যে একটি রাজ্যে বিজেপির সরকার রয়েছে। এই ট্যাপ করার জন্য একটি বিশেষ গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই গাড়ির মধ্যে ওই সফটওয়্যার রয়েছে। গাড়ি যেখানে যাচ্ছে সেখানকার ১০ কিলোমিটারের মধ্যে যে কারও ইচ্ছে ফোন ট্যাপ করা কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ থেকে তথ্য নিয়ে নিচ্ছে।” রবিবার কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর হোয়াটসঅ্যাপেও আড়ি পাতা হয়েছে।

    কিন্তু বাংলার রাজ্যপালের আজকের মন্তব্যকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। তাঁদের কথায়, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একটা ইস্যু এমন যায়নি, যেখানে রাজ্যপাল প্রতিক্রিয়া দেননি। আর সব ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে আঙুল তুলেছেন সরকারের দিকে। সে অর্জুন সিং-এর উপর হামলার ঘটনাই হোক বা যাদবপুরে বাবুল সুপ্রিয়কে নিগ্রহ। ফোন ট্যাপ ইস্যুতেও ‘বড় বড় লোকেদের’ কথা তেনে রাজ্যকে নিশানা করতে ছাড়লেন না সাংবিধানিক প্রধান।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More