আমি হতবাক, ডাকার পরেও এলেন না ডিজি-মুখ্যসচিব, টুইট রাজ্যপালের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি অনুরোধ করা সত্ত্বেও রাজভবনে রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা ও রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্রর না যাওয়া নিয়ে টুইট করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।  রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান সোমবার বিকেলে একটি টুইটে মুখ্যমন্ত্রীকে মেনশন করে লিখেছেন, “আমি হতবাক যে, অনুরোধ করা সত্ত্বেও না এলেন মুখ্যসচিব, না এলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি!” তিনি আরও লিখেছেন, “এইরকম সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

    নয়া নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে বাংলার জেলায় জেলায় অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। ৭২ ঘণ্টা কেটে যাওয়ার পরও উত্তেজনা থামার নামগন্ধ নেই। উলটে নতুন নতুন জায়গায় শুরু হয়েছে অশান্তি। এই পরিস্থিতিতে গোটা বিষয়টি জানতে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান ডেকে পাঠিয়েছিলেন ডিজি এবং মুখ্যসচিবকে। সোমবার সকাল ১০টায় তাঁদের রাজভনে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন ধনকড়। কিন্তু যাননি রাজ্য প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্তাই। সকাল থেকে বিকেল গড়িয়ে গেলেও রাজভনে যাননি তাঁরা। যদিও বিকেলে নবান্ন সূত্রে জানা যায়, সন্ধের পর রাজভবনে গেলেও যেতে পারেন ডিজি এবং মুখ্যসচিব।

    আরও পড়ুন: কেন্দ্র ট্রেন বন্ধ করে দিয়েছে রাজ্যে, রেলের উপরে সব দোষ চাপালেন মমতা

    দুই শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তা রাজ্যপালের ডাক উপেক্ষা করার পর অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, তাহলে কি রাজীব সিনহা এবং বীরেন্দ্র পাত্তাই দিলেন না?

    রবিবার সন্ধেবেলা রাজ্যপাল দুই কর্তাকে তলব করার পরই রাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে বৈঠকে বসেন তাঁরা। কিন্তু সেই বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে তা সরকারি ভাবে কিছুই জানানো হয়নি। পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যপালের ডাকে সাড়া না দিয়ে রাজ্য প্রশাসনের দুই কর্তা বুঝিয়ে দিলেন, সংঘাত এবার আরও চরমে উঠবে।

    নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বাংলায় যে লণ্ডভণ্ড শুরু হয়েছে তা নিয়ে রবিবারই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন রাজ্যপাল। তীব্র সমালোচনায় বিদ্ধ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যের মন্ত্রীদের। প্রশাসনিক কর্তাদের দিকেও আঙুল তুলেছিলেন ধনকড়।

    সম্প্রতি দেখা গিয়েছে রাজ্যপাল কোনও জেলা সফরে গিয়ে সেখানকার পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদের ডেকে পাঠালেও তাঁরা যাচ্ছেন না দেখা করতে। শাসক তথা মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শেই তাঁরা তা করছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

    ক্যাব, এনআরসির বিরুদ্ধে সরকারের তরফে যে বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে তা নিয়েও রবিবার তোপ দেগেছিলেন রাজ্যপাল। বলেছিলেন, “একজন নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে সরকারের টাকায় এই ধরনের বিজ্ঞাপন করা যায় না। আমি তাঁকে বলেছি, এই বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার করতে।” সব মিলিয়ে রাজ্য সরকার বনাম রাজভনের যে সংঘাত চলছিল, সোমবার ডিজি ও মুখ্যসচিবের না যাওয়া সেটাকেই আরও চরম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া বলে মত পর্যবেক্ষকদের। আর বিকেলবেলা রাজ্যপাল টুইট করে স্পষ্ট বলে দিলেন, এটা মানা যায় না।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More