বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কে ঢাকনা লাগিয়ে দিয়েছি, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথার পর বললেন রাজ্যপাল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য নিয়োগ ঘিরে মঙ্গলবার দুপুরেও রাজভবন বনাম সরকারের সংঘাতের পারদ ছিল চড়া দাগে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গেল ছবিটা। আজ, বুধবার বিকেলে রাজভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যপাল তথা বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীপ ধনকড় বলেন, সহ উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল তাতে তিনি একটা ঢাকনা লাগিয়ে দিয়েছেন। সকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ ফোনে এ ব্যাপারে তাঁর আলোচনা হয়েছে বলেও জানান রাজ্যপাল।

    এদিন ধনকড় বলেন, “রাজ্যে এখন তিনটি সমস্যা। একদিকে কোভিড সংক্রমণ, তার উপরে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় উমফান এবং সেইসঙ্গে যোগ হয়েছে পরিযায়ী শ্রমিকদের চাপ। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা ক্ষেত্র নিয়ে বিতর্ক কাম্য নয়। আমি নির্দিষ্ট এই বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কোনও রকম চাপানউতোর চাই না। এতে শিক্ষাঙ্গনে খারাপ প্রভাব পড়তে পারে।”

    সকালে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর যে ফোনে কথা হয়েছে তা অত্যন্ত ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন রাজ্যপাল। এদিন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, প্রো ভিসি হিসেবে আপনি অধ্যাপক গৌতম চন্দ্রকে নিয়োগ করে বলেছিলেন, এটা আপনার সাংবিধানিক এক্তিয়ার। আচার্য হিসেবে আপনি তা করতেই পারেন। এখন তাহলে সেই অবস্থান থেকে সরছেন কেন? রাজ্যপাল বলেন, “এটা ক্লোজড চ্যাপ্টার। আমি এটায় একটা বড় ঢাকনা লাগিয়ে দিয়েছি। অনেক চিন্তা করে, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি বলেন, “এটা সংঘাতের সময় নয়। এখন সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে চাই।”

    রাজ্যপালের এ হেন বিগলিত মনোভাব দেখে অনেকেই ভ্রু কুঁচকেছেন। যে রাজ্যপাল কথায় কথায় রাজ্য সরকারকে খোঁচা দেওয়াকে কার্যত রুটিন করে ফেলেছেন, তিনি নিজে থেকেই বিতর্কে ঢাকনা লাগিয়ে দিচ্ছেন, এটা যেন অনেকেরই হজম হচ্ছে না।

    অনেকের প্রশ্ন, তাহলে কি সরকারের চাপের কাছে মাথা ঝোঁকাল রাজভবন? নাকি দিল্লি থেকেই রাশ টানা হয়েছে? যদিও অনেকের মতে, এর আগেও বহু বার সরকারের কাজের প্রশংসা করার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্য ইস্যুতে সমালোচনা করার নজিরও এই রাজ্যপালের রয়েছে।

    রাজ্যপালের নিয়োগ করা সহ উপাচার্যকে নস্যাৎ করে পাল্টা সরকারের মনোনীত সহ উপাচার্য আশিষ কুমার পাণিগ্রাহিকে নিযুক্ত করা হয় বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় গতকালই বলেন, রাজ্যপাল মাস্তান সুলভ আচরণ করছেন। উপাচার্যদের ফোন করে ভয় দেখাচ্ছেন। যদিও এদিন পার্থবাবুর ওই কথা নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। শুধু বলেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় আমার একজনই বন্ধু রয়েছেন। তিনি ডক্টর পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এক দিন ছাড়া ছাড়া ওঁর সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়। উনি খুব ভদ্র এবং শিক্ষিত মানুষ।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More