বুধবার, নভেম্বর ২০
TheWall
TheWall

বাংলায় স্বাস্থ্য নিয়েও রাজনীতি হচ্ছে, আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে তোপ ধনকড়ের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারের বিরুদ্ধে সমালচনাকে যেন রুটিনে পরিণত করে ফেলেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনককড়। সেই ধারাবাহিকতায় নবতম সংযোজন স্বাস্থ্য ইস্যু। কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কেন বাংলায় আটকে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন বাংলার সাংবিধানিক প্রধান। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এখনও ১০০ দিন হয়নি তিনি রাজ্যপালের দায়িত্ব নিয়েছেন। এরমধ্যেই প্রায় তিন হাজার আবেদন তাঁর কাছে জমা পড়েছে। যার সবকটাই স্বাস্থ্য নিয়ে।

বাংলায় আয়ুষ্মান ভারত হবে না বলে লোকসভা ভোটের তিন মাস আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যাপাধ্যায়। বদলে রাজ্যের নিজস্ব প্রকল্প স্বাস্থ্যসাথীর কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু রাজ্যপাল বললেন, “এখানে সব কিছু নিয়েই রাজনীতি হয়। সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে রাজনীতিকরণ। স্বাস্থ্যকে তা থেকে বাদ রাখাই শ্রেয়।”

ধনকড় আরও বলেন, “সারা দুনিয়াতে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু বাংলার মানুষ তার সুবিধে পাচ্ছে না। এটা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতে বাঞ্ছনীয় নয়।” তাঁর কথায়, “কোন প্রকল্পের টাকা কোথা থেকে আসছে সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। কিন্তু আমার ভীষণ ভাবে মনে হয়, মানুষের জন্য যে টাকাই আসুক, তার যথাযোগ্য ব্যবহার হওয়া উচিত। এটাই সুষ্ঠু যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর লক্ষণ।” তবে সাংবাদিকদের সামনে রাজ্যপাল এও বলেছেন, তিনি আশা করছেন, সরকার মানুষের সুবিধের দিকটাকেই অগ্রাধিকার দেবে।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কৃষণনগরের সরকারি সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষনা করেছিলেন, বাংলা নাম তুলে নিচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত থেকে। তিনি বলেছিলেন,  “বাংলায় স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প শুরু করেছে কেন্দ্র। তার চল্লিশ শতাংশ টাকা রাজ্য দিচ্ছে। অথচ প্রধানমন্ত্রীর ছবি দিয়ে সেই প্রকল্পের বিজ্ঞাপন দেখিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে। কিন্তু ওটা তোমার টাকা নয়, ওতে রাজ্যের টাকা রয়েছে।” একইসঙ্গে  মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, “আমি ওই প্রকল্পে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিলাম। প্রকল্প চালাতে হলে টাকা দেবে তোমার থেকে, আমি আর টাকা দেব না। আমরা আমাদেরতা বুঝে নেব।” তিনি এও বলেছিলেন, “বাংলার প্রকল্প টুকলি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।” তবে বুধবার রাতে একটি অনুষ্ঠান শেষে রাজ্যের বিরুদ্ধেই পাল্টা রাজনীতির অভিযোগ তুললেন রাজ্যপাল।

এর আগে আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে বাংলায় ভোট প্রচার করতে এসে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরাও তোপ দেগেছিলেন মমতা-সরকারের বিরুদ্ধে। বলেছিলেন, সঙ্কীর্ণ রাজনীতি করতে গিয়ে রাজ্যের কোটি কোটি মানুষকে বঞ্চিত করছে তৃণমূল সরকার। যদিও রাজ্যপালের এই বক্তব্য নিয়ে তৃণমূলের তরফে দলগত ভাবে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে অনেক নেতাই ঘরোয়া আলোচনায় বলছেন, রাজ্যপাল নিজের চেয়ারের মর্যাদা ভুলে গিয়েছেন। সাংবিধানিক পদে বসে সরাসরি রাজনীতির কথা বলছেন। এটা মোটেই কাম্য নয়।

Comments are closed.