বাংলার পরিস্থিতি কতটা ভয়ঙ্কর, জিয়াগঞ্জের ঘটনাই তার প্রমাণ: রাজ্যপাল, পাল্টা আক্রমণে পার্থ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরোমুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে এক পরিবারের তিনজনের নৃশংস খুনের ঘটনায় মুখ খুললেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। বললেন, “ঘটনার নৃশংসতার কথা ভাবলেই আমি শিউড়ে উঠছি। আরও চিন্তিত এ কারণেই যে ওই ঘটনার পর দুদিন কেটে গেলেও প্রশাসনের তরফে টুঁ শব্দও করা হয়নি। এই নীরবতা মারাত্মক। এই নীরবতাই অনেক কিছু বুঝিয়ে দিচ্ছে”।

    রাজ্য সরকার তথা গোটা নবান্ন যখন কাল শুক্রবার রেড রোডে কার্নিভ্যালের আয়োজনে ব্যস্ত, তখন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের এই মন্তব্য যে শাসক দলকে তীব্র অস্বস্তির মধ্যে ফেলে দিল সংশয় নেই। বিশেষ করে ধনকড় যেন এ দিন বোঝাতে চেয়েছেন, বাংলায় বর্তমান সরকার কার্যত অমানবিক। তাঁর কথায়, “এই ধরনের বীভৎসতা দেখেও কেউ যদি ভিতরে ভিতরে টলে না যান, কোনও প্রতিক্রিয়া না জানান, তা হলে বুঝতে হবে তাঁর মধ্যে মনুষত্বই নেই”।

    বিজয়া দশমীর সকালে জিয়াগঞ্জে ওই মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটেছিল। প্রকাশ বন্ধু পাল নামে এক শিক্ষক, তাঁর আট বছরের ছেলে ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করা হয়। পরে আরএসএস দাবি করেছে, নিহত শিক্ষক সঙ্ঘের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি তথা সঙ্ঘের কর্মীরা সোশ্যাল মিডিয়াতেও তীব্র নিন্দামন্দ ও সমালোচনা শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে জিয়াগঞ্জের ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান রাজ্যপাল।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাজ্যপাল বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আমি খুবই বিচলিত হয়ে পড়ি। প্রশাসনের কাছে এ ব্যাপারে রিপোর্টও চেয়েছি। তাঁর কথায়, “আমি চাইব এই ঘটনা নিয়ে পুলিশ ও প্রশাসন যেন সত্যনিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে তদন্ত করেন। অন্য কোনওরকম কারণে যে তদন্ত প্রভাবিত না হয়। কোনও ভাবেই যেন প্রকৃত ঘটনাকে কার্পেটের তলায় লুকনোর চেষ্টা না হয়”। 

    পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যপালের এই মন্তব্যও তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলায় রাজনৈতিক কারণে পুলিশের তদন্ত যে প্রভাবিত হয় সে ব্যাপারে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধীদের পুলিশ ও প্রশাসনের মাধ্যমে হেনস্তা করার অভিযোগও রয়েছে ভুড়ি ভুড়ি। রাজ্যপাল হয়তো সেদিকেই ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন।

    এমনকী জগদীপ ধনকড় এ দিন এও বলেন, সমাজে পৃথক মতাদর্শ ও চিন্তার মানুষ থাকবে। কিন্তু তা নিয়ে আমাদের অসহিষ্ণু হলে চলবে না। বরং এমন একটা মেকানিজম গড়ে তুলতে হবে, যাতে সব রকম মতের মানুষ শান্তিতে সহাবস্থান করতে পারেন।

    প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জগদীপ ধনকড়ের বেশ কয়েকটি মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যে শাসক দল অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাবুল সুপ্রিয়কে হেনস্তার ঘটনাকে কেন্দ্র রাজ্যপালের সঙ্গে তৃণমূলের সংঘাত প্রকট হয়ে পড়ে। কার্যত দু’পক্ষের মধ্যে শঠে শাঠ্যং শুরু হয়ে যায়। কিন্তু তার পরেও এ দিন জিয়াগঞ্জের ঘটনা নিয়ে রাজ্যপাল যে রকম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তাতে মনে করা হচ্ছে, তিনি শাসক দলের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে বিচলিত নন। তাঁর যেটা করার তিনি সেটা করবেন। রাজ্যপালের মন্তব্য নিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে কেউ কোনও মন্তব্য না করলেও তৃণমূলের তরফে দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ওনার বক্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অভিসন্ধিমূলক। তাঁর কথায়, “রাজ্যপাল নিজেকে সংযত রাখেন। সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘন না করেন। মুর্শিদাবাদের একটি পারিবারিক মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে হয়কে নয় করা হচ্ছে। বিজেপি-র অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে চাপা দিতে রাজ্যপালকে আসরে নামানো হয়েছে”।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More