মমতার বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ রাজ্যপালের, ‘আমাকে কার্নিভালে ডেকে অপমান করা হয়েছে’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যপাল পদে তিনি শপথ নিয়েছেন সবে আড়াই মাস হয়েছে। এরই মধ্যে নবান্নের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ আনলেন জগদীপ ধনকড়। তাঁর অভিযোগ, রেড রোডে দুর্গা-কার্নিভালের মঞ্চে ডেকে তাঁকে অপমান করা হয়েছে। বাংলায় কার্যত গণতন্ত্রের কালো অধ্যায় চলছে।

    গত ১১ অক্টোবর রেড রোডে কার্নিভালের আয়োজন করেছিল রাজ্য সরকার। তাতে দেখা যায়, মূল মঞ্চে বসে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতে সরকারি আমলা থেকে শুরু করে সিরিয়ালের অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায় পর্যন্ত রয়েছেন। কিন্তু রাজ্যপালের জন্য বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে একটি পৃথক মঞ্চে। সেখানে বিদেশি অতিথিরাও ছিলেন।
    এ প্রসঙ্গেই রাজ্যপাল মঙ্গলবার বলেন, রাজ্যের প্রথম নাগরিককে যে ভাবে আলাদা করে বসিয়ে কোণঠাসা করা হয় তা দুঃখজনক শুধু নয়, লজ্জাজনকও বটে। তাঁর কথায়, “রাজ্যপালকে এমন জায়গায় বসতে দেওয়া হয়েছিল যে কার্নিভালের অনুষ্ঠানই তিনি দেখতে পারেননি। সামনে কুড়ি বাইশ জন লোক ব্লক করে বসেছিলেন। আমাকে অনেক বার আসন বদলাতে হয় ভাল করে অনুষ্ঠানটি দেখার জন্য”। এ কথা বলেই, রাজ্যপাল প্রশ্ন করেন, “এটা কী সৌজন্য? রাজ্যপালের পদ হল সাংবিধানিক পদ। পদেরই মাহাত্ম্য, ব্যক্তি সেখানে বড় নয়। তাঁর সঙ্গে কি এমন আচরণ করা যায়?”

    আরও পড়ুন: বাংলার পরিস্থিতি কতটা ভয়ঙ্কর, জিয়াগঞ্জের ঘটনাই তার প্রমাণ: রাজ্যপাল, পাল্টা আক্রমণে পার্থ

    এ ব্যাপারে এ দিন প্রকারান্তরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আঙুল তুলতেও দ্বিধা করেননি ধনকড়। তিনি বলেন, আমি শপথ নেওয়ার দিনেই মুখ্যমন্ত্রী আমাকে কার্নিভালের জন্য নিমন্ত্রণ করেছিলেন। পরে অগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহের পর বেশ কয়েকবার তাঁর তরফে আমাকে এই অনুষ্ঠানের কথা স্মরণ করিয়েও দেওয়া হয়েছে। অথচ অনুষ্ঠানের দিন পনেরো –কুড়ি সেকেন্ডের জন্য উনি আমাকে স্বাগত জানাতে এসেছিলেন। ওখান থেকে বেরিয়ে আসার সময়েও নমঃ নমঃ করে বিদায় দেন।

    রাজ্যপালের এই অভিযোগ শুনে রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিধানসভার মুখ্য সচেতক তাপস রায় বলেন, “ছিঃ ছিঃ ছিঃ! রাজ্যপাল যদি এ কথা বলে থাকেন তা হলে খুবই দুর্ভাগ্যজনক। ওনাকে আলাদা সম্মান দিতেই পৃথক মঞ্চ গড়ে তাঁকে উৎসর্গ করা হয়েছিল। আমি জানি না উনি কী চাইছেন! কেন এরকম বলছেন!”

    যদিও রাজ্যপালের মতে, এটা একেবারেই সরকারের শীর্ষ কর্তাদের অজান্তে হয়েছে বা ভুলবশত হয়েছে তা তিনি মনে করেন না। বরং তাঁর মতে, একটা সুনির্দিষ্ট ভাবনা নিয়েই রাজ্য প্রশাসন তাঁর সঙ্গে এমন ব্যবহার করেছে। তাঁকে ডেকে এনে অপমান করাই ছিল উদ্দেশ্য।

    আরও ম্পড়ুন: সোজাসাপ্টা রাজ্যপাল: রাজনৈতিক সার্কাসের লোক নই,মানুষের জন্য কাজ করব বলে শপথ নিয়েছি

    এখানেই থামেননি রাজ্যপাল। জগদীপ ধনকড় বলেন, “সংবাদমাধ্যম এটা দেখেও চুপ করে থাকল এটাই সব থেকে বিষ্ময়ের। এটা ভাবতেই পারছি না”। রাজভবনের অভিযোগ, কার্নিভালের লাইভ স্ট্রিমিং যখন টিভিতে দেখানো হয় তখন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর মঞ্চের দিকেই ফোকাস করা হয়েছিল। রাজ্যপালকে দেখানোও হয়নি। এর নেপথ্যে কারসাজি রয়েছে বলে রাজভবনের অনেকের মত। রাজ্যপালের কথায়, “আশা করি সংবাদমাধ্যম ভয় পেয়ে এটা করেনি বা তাদের উপর জোর খাটানো হয়নি। তবে সত্যিই যদি তেমন কিছু হয়ে থাকে তা হলে সাধারণ মানুষের অবস্থাটা এ রাজ্যে কী তা বোধগম্য”।

    বিস্তারিত আসছে…

    পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More