‘তথ্য চাইলেই বাড়িতে পুলিশ যায়’, মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে ফের আক্রমণ রাজ্যপালের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার রাতে শিল্প সম্মেলন নিয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলেছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। ১২ ঘণ্টা কাটতে না কাটতে রবিবাসরীয় দুপুরে সামগ্রিক ভাবে তথ্য না দেওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ফের চড়া সুরে আক্রমণ শানালেন রাজ্যপাল।

    টুইট করে ধনকড় বলেছেন, “রাজনৈতি হিংসা, শিল্প সম্মেলনে দুর্নীতি, রেশন ব্যবস্থা, উমফানের ত্রাণে অনিয়ম-সহ নানা বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর থেকে রিপোর্ট চাওয়া রাজ্যপালের অধিকার ও কর্তব্য। কিন্তু সেই তথ্য পাওয়া যায় না।” এমনিতে রাজ্যপাল সম্পর্কে শাসকদলের বক্তব্য হল, তিনি রাজভবনে বসে বিজেপির এজেন্ট হয়ে কাজ করছেন। একথা মুখ্যমন্ত্রীও একাধিকবার বলেছেন। রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান এদিন টুইটে লিখেছেন, “তথ্য চাইলেই শাসকদল বলছে, রাজ্যপাল রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট। আমার প্রশ্ন, এটা কি আইনের শাসন বা গণতন্ত্র?”

    পৃথক একটি টুইটে রাজ্যপাল সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, তথ্য দেওয়া হয় না কেন? এত লুকোনোর কী আছে? মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে ধনকড় বলেন, যাঁরা তথ্য দিচ্ছেন না তাঁদের চিহ্নিত করুন। এই অস্পষ্টতা দুর্নীতির জন্ম দেবে। বাক্সের ভিতর কঙ্কালের সংখ্যা আরও বাড়বে।

    এখানেও থামেননি রাজ্যপাল। মোট তিনটি টুইট করেছেন এদিন। তার মধ্যে একটিতে লিখেছেন, “রাজ্যপালকে তথ্য না দেওয়ার ব্যর্থতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তথ্যের অধিকারের করুণ অবস্থার পরিচায়ক। মুখ্য তথ্য কমিশনারকে ডেকে আগেই সতর্ক করেছি।” এরপর ধনকড় লিখেছেন, “তথ্য চেয়ে আবেদন করলেই এ রাজ্যে বাড়িতে পুলিশ যায়। ভয় দেখানো হয়। তাই এত কম আবেদন জমা হয়। দুর্নীতি রোধে তথ্য প্রকাশ সবচেয়ে জরুরি।”

    যদিও গত মাসেই মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, রাজ্যপালকে যথেষ্ট তথ্য দেওয়া হয়। সময় থাকলে তাঁকে গিয়ে প্রণাম করে আসতেন বলেও কটাক্ষ করেছিলেন মমতা। কার্যত নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে রুদ্রমূর্তি ধরেছিলেন মমতা। বলেছিলেন, “সারা দিন করোনা সামলাব, উমফান সামলাব, না ওঁর সব প্রশ্নের জবাব দেব। তাও যতটা পারি দিই। আমি মেসেজ করি। আমার মুখ্যসচিব তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন। আর কী করব। আমরা তো চাকরবাকর!”

    পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যপাল আসলে বোঝাতে চেয়েছেন, রাজ্য সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রের আর্থিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছে বলেই তথ্য সামনে আনছে না। পাছে পুরোটা সামনে চলে আসে। যদিও শাসকদলের নেতারা এ নিয়ে সরকারি ভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া না দিলেও ঘরোয়া আলোচনায় তাঁরা বলছেন, রাজ্যপাল তো কেন্দ্রের মনোনীত লোক। উনি আগে পিএম কেয়ার্সের হিসেবটা চেয়ে বের করুন দেখি। তারপর এখানে বড় বড় কথা বলবেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More