বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ করব না, দেখি না কতদূর যেতে পারেন: রাজ্যপাল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজনীতিতে কোনওকিছুই নিত্য নয়। সবই অনিত্য। তবু শনিবাসরীয় সন্ধ্যায় অন্তত এক অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিলেন, বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি তথা সংবিধানের ৩৫৬ ধারা প্রয়োগের ব্যাপারে তিনি কোনও সুপারিশ করবেন না।

    তা হলে কী করবেন তিনি? ধনকড়ের বক্তব্য, “আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সব থেকে সেরা উপায়। দেখি না কতদূর যেতে পারেন (পড়ুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)”।

    সংসদে বিল পাশ হওয়া সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম দিনই পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, নাগরিকত্ব সংশোধন আইন তিনি মানবেন না। বাংলার ওই আইনের বাস্তবায়ন হবে না। আবার কদিন আগে জাতীয় জনগণনা পঞ্জি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, এনপিআর মানব না। তার পর রাজ্যপালকে বিজেপির মুখপাত্র আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ক্ষমতা থাকলে সরকার ফেলে দিক।

    গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনও রাজ্যই বলতে পারে না কেন্দ্রীয় আইন মানব না। সেক্ষেত্রে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হওয়ার পরিস্থিতি অনিবার্য হয়ে ওঠে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, কৌশলগত ভাবেই কেন্দ্রের সঙ্গে সেই সংঘাত বাড়াতে চাইছেন মমতা। যাতে রাজ্যপাল তথা কেন্দ্রও বাংলার বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়।

    কেন মমতা তা চাইতে পারেন তার ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা। তাঁরা বলছেন, মমতা হয়তো দেখাতে চাইছেন কেন্দ্রের দাদাগিরিতে তিনি তথা বাংলা আক্রান্ত। রাজ্যপাল শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ করলে একুশের ভোটের আগে সহানুভূতি পেতে পারে তৃণমূল। সম্ভবত সেটা আঁচ করেই রাজ্যপালও হয়তো পাল্টা কৌশলী।

    শনিবারের ওই অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল নাগাড়ে সরকার বিরোধী মন্তব্য করেন। কী ভাবে তাঁকে অপমান করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্যরা কীভাবে তাঁর অবমাননা করছেন, শিক্ষা দফতর তাতে কেমন করে প্রশ্রয় দিচ্ছে, সরকারি আমলারা তাঁর কথাকে অবজ্ঞা করছেন ইত্যাদি সবই তুলে ধরেন তিনি। কিন্তু একই সঙ্গে বলেন, আমি দমবার পাত্র নই। আমি কাজ চালিয়ে যাব।

    আরও পড়ুন সংসদে পাশ হওয়া আইন মানব না, বলতে পারে না রাজ্য: কপিল সিব্বল

    ধনকড়কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি যেরকম অতিসক্রিয় তাতে অনেকেরই মনে হচ্ছে যে তিনি বিজেপির অ্যাজেন্ডা নিয়ে কাজ করছেন। এমনকি তাঁকে ওই অনুষ্ঠানেই কিছুটা মজা করে বাংলায় বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী বলে টিপ্পনিও করা হয়।
    তবে রাজ্যপাল নির্বিকার। তিনি বলেন, ধারনা হয়তো তৈরি হয়েছে বা তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু আমার ভুল কোথায় হয়েছে। সাংবিধানিক ভাবে কোথায় আমি লক্ষ্মণরেখা অতিক্রম করেছি। কেউ দেখিয়ে দিন। কান ধরে ক্ষমা চেয়ে নেব।

    অনেকের মতে, ধনকড় যে ভুল বলছে তা নয়। সরকারের মন্ত্রীরা তাঁর সম্পর্কে যে ধরনের মন্তব্য করছেন তাও সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কখনও কখনও শালীনতার মাত্রা ছাড়াচ্ছে। উপচার্যদের অনেকেই দলদাসের মতো আচরণ করছেন। কিন্তু এও ঠিক যে, রাজ্যপাল যে বিজেপির অ্যাজেন্ডা বহন করে চলেছেন তাও প্রকট হয়ে পড়ছে। এই দুয়ে মিলেই শঠে শাঠ্যং তৈরি হচ্ছে।

    এখন প্রশ্ন হল, একুশের ভোটের আগে বাংলায় কোনও পরিস্থিতিতেই কি রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে না!

    বিজেপি শিবিরে একাংশের অবশ্য অন্য ভাবনা রয়েছে। তাঁদের মতে, সাংবিধানিক সংকট তৈরি হলে রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশই করা উচিত রাজ্যপালের। তা ছাড়া একুশের ভোট রাষ্ট্রপতি শাসনে হলে তবেই নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হতে পারে। কারণ, তৃণমূলের মেরুদণ্ড হল পুলিশ ও প্রশাসন। তাদের দিয়েই ভোটের সময় নানান কারসাজি করা হয়। এবং সন্দেহাতীত ভাবে বলা যায় বাংলায় পুলিশতন্ত্র চলছে। সেই মেরুদণ্ড ভেঙে গেলে তৃণমূল মুখ থুবড়ে পড়বে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More