বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫

সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের পর এ বার সব বিধায়ককে নিরাপত্তা দিচ্ছে রাজ্য  

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের পর ইদানীং ভয় ঢুকে গিয়েছে অনেক বিধায়কের মধ্যেই। কখন কী হয় তাঁরা আতঙ্কে রয়েছেন। তাই এ বার সমস্ত বিধায়ককে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা করছে নবান্ন। শুধু শাসকদল নয়, বিরোধী বিধায়কদের জন্যও এই নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে বলে খবর।

যে বিধায়কদের নিরাপত্তা ছিল তাঁদের ক্ষেত্রে তা বাড়ানো হচ্ছে এবং যাঁদের নিরাপত্তারক্ষী ছিলই না, তাঁদের সঙ্গে অন্তত একজন করে নিরাপত্তারক্ষী দেওয়া হচ্ছে। জানা গিয়েছে, শাসক দলের বেশ কয়েকজন বিধায়ক বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিরাপত্তার আবেদন জানান। বিধায়কদের আবেদন পেয়ে অধ্যক্ষ রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ডেকে ব্যাপারটি জানান বিমানবাবু। তারপর থেকেই জেলায় জেলায় এ ব্যাপারে তৎপর হয়ে ওঠে প্রশাসন।

ইতিমধ্যেই দুই বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর চব্বিশ পরগনায় বিধায়কদের ফোন করে কমিশনারেট বা স্থানীয় থানা থেকে নিরাপত্তার বিষয়টি জানানো হয়। জামুড়িয়া থানার ফোন পেয়ে কার্যত আঁতকে ওঠেন সিপিএম বিধায়ক জাহানারা খান। তাঁকে বলা হয় স্থানীয় থানায় মিটিং-এ যাওয়ার জন্য। জাহানারা বলেন, “যে প্রশাসন, বিরোধী বিধায়কদের অন্য সময় পাত্তাই দেয় না, তারা হঠাৎ মিটিং-এ ডাকছে এটা ভেবেই অবাক হয়েছিলাম। পরে জানানো হয় নিরাপত্তার বিষয়টি।” কিন্তু পশ্চিম বর্ধমানের ওই সভায় তৃণমূলের দুই ব্লক স্তরের নেতাও উপস্থিত থাকবেন খবর পেয়ে বেঁকে বসেন জাহানারা। নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য রানিগঞ্জের সোহরাব আলি এবং দুর্গাপুরের নারায়ণ চক্রবর্তীকে বৈঠকে ডাকে প্রশাসন।

প্রসঙ্গত, তৃণমূল নেতা নারায়ণ চক্রবর্তী কয়েক বছর আগে অস্ত্র-সহ বিমানবন্দরে ধরা পড়েছিলেন। জানা গিয়েছে, জাহানারা তো বটেই, দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় এবং রাণিগঞ্জের বিধায়ক রুনু চক্রবর্তী এই তিন সিপিএম বিধায়ক নিরাপত্তা নিতে অস্বীকার করেছেন।

বিভিন্ন জেলায় এই বৈঠক শুরু করেছে পুলিশ। প্রশাসনের তরফে বিধায়কদের ডেকে বলা হচ্ছে, আপনারা কোথায় যাচ্ছেন, কখন যাচ্ছেন তা প্রশাসনকে জানিয়ে যান। যদি আপনার নিরাপত্তারক্ষী ছুটি নেন তাহলে তাও জানান, প্রশাসন বিকল্প ব্যবস্থা করবে। সত্যজিতের ক্ষেত্রেও তাঁর নিরাপত্তারক্ষী ছুটি নিয়েছিলেন। আর সেই রাতেই ঘটে যায় খুনের ঘটনা।

Spread the love

Comments are closed.