শনিবার, নভেম্বর ১৬

মমতা সরকারের বড় সিদ্ধান্ত, বেআইনি টাকার লেনদেন, ড্রাগ ও অস্ত্র পাচার রুখতে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স হচ্ছে রাজ্য পুলিশের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটের আগে কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে অর্থনৈতিক অপরাধ শাখার মাথায় বসিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে অবশ্য নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তাঁকে সরাতে হয়েছিল।

তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেমে থাকলেন না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যে হেতু অপরাধের গতিপ্রকৃতিও পরিবর্তিত হচ্ছে, তাই এ বার বড় সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। বেআইনি টাকার লেনদেন, জাল নোটের কারবার, ড্রাগ পাচার, বেআইনি অস্ত্র মজুত, রাজ্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র রুখতে পুলিশের নতুন স্পেশাল টাস্ক ফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন।

এ ব্যাপারে সোমবারই একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর থেকে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ওই স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের মাথায় থাকবেন এক জন এডিজি পদ মর্যাদার অফিসার। সেই সঙ্গে এক জন আইজি এবং দু’জন ডিআইজি পদ মর্যাদার অফিসারও থাকবেন এসটিএফ-এ।

নবান্নের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের এই প্রস্তাব ও বাহিনীর জন্য নতুন পদ তৈরি করার পদক্ষেপে সম্মতি দিয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। এসটিএফ গঠনের ফলে রাজ্য পুলিশের পুরনো কিছু পদের বিলোপ ঘটানো হচ্ছে। যেমন এডিজি প্ল্যানিং, আইজিপি বর্ডার, ডিআইজি সিআইডি (অপারেশন) ইত্যাদি।

 

সরকারের এই পদক্ষেপ যে তাৎপর্যপূর্ণ সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। সূত্রের খবর, এ ব্যাপারে গত কয়েক মাস ধরে দফায় দফায় আলোচনা হয়েছে সরকারের অন্দরে। এমনকী মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সম্প্রতি ভবানী ভবনে সিআইডি দফতরেও একবার রাজ্য পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র দফতরের শীর্ষ কর্তারা এ ব্যাপারে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।

এখন প্রশ্ন হল, নতুন এই টাস্ক ফোর্সের মাথায় কাকে বসাবেন মুখ্যমন্ত্রী?

সেই সিদ্ধান্তের কথা নবান্নের তরফে এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে রাজ্য পুলিশের উপর মহলে কিছু পরিবর্তন এ দিন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে। এসটিএফ-এর শীর্ষ স্তরে অফিসার নিয়োগও শুরু হয়ে গিয়েছে। যেমন দার্জিলিংয়ের ইন্সপেক্টর জেনারেল অজয় কুমার নন্দকে এসটিএফের আইজি করা হয়েছে। আইপিএস অফিসার নিশান্ত পারভেজকে সিআইডি-র অপারেশন থেকে তুলে এনে এসটিএফের ডিআইজি করা হয়েছে। তা ছাড়া হাওড়ার ডিসি হেড কোয়ার্টার্স সুনীল কুমার যাদবকে এসটিএফের পুলিশ সুপার করা হয়েছে।

 

এ ছাড়াও থাকবেন চার জন পুলিশ সুপার। চোদ্দ জন ডেপুটি পুলিশ সুপার এবং ২৫ জন ইন্সপেক্টর ও পঞ্চাশ জন সাব ইন্সপেক্টর। পাশাপাশি দেড়শ জন কনস্টেবলও থাকবে বাহিনীতে। সব মিলিয়ে বাহিনীতে থাকবেন ৩৮৪ জন।

নবান্নের এক পদস্থ আমলার কথায়, সন্ত্রাস দমন, বেআইনি টাকার লেনদেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বা বেআইনি অস্ত্র মজুতের মতো অপরাধের ধরন ধারন এখন বদলে গিয়েছে। এ জন্য একটা স্পেশাল ফোর্স তৈরি করা সময়ের দাবি। সেটাই করা হল। তাঁর মতে, হতেই পারে এডিজি সিআইডি পদ থেকে সরিয়ে রাজীব কুমারকেই এসটিএসের চিফ করা হবে।

তবে অনেকেই এর পিছনে রাজনৈতিক কারণও দেখছেন। তাঁদের মতে, লোকসভা ভোটের পর বাংলায় বিভিন্ন কেন্দ্রীয় এজেন্সি যে ভাবে সক্রিয় হচ্ছে, তাতে শাসক দলের একটা উদ্বেগ তো রয়েছেই। তৃণমূলের এও শঙ্কা রয়েছে, বিধানসভা ভোটের আগে বাংলায় জলের মতো টাকা খরচ করবে বিজেপি। এসটিএফ-এর একটা বড় কাজ যে বেআইনি টাকার লেনদেন আটকানো হবে সেটা বিজ্ঞপ্তিতেই লেখা রয়েছে।

Comments are closed.