দিদির ঠ্যালায়? জমিতে কোদাল কোপালেন প্রাক্তন মন্ত্রী চূড়ামণি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

বুদ্ধদেব বেরা, ঝাড়গ্রাম: দিদি বলেছিলেন সবাইকে মাঠে নেমে কাজ করতে হবে। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী যেন বাধ্য ছাত্র। সত্যি সত্যি কোদাল হাতে মাঠে নেমে পড়লেন।

পঞ্চায়েত ভোটে গোটা পশ্চিমাঞ্চলে তৃণমূলের খারাপ ফলের পরই স্থানীয় বিধায়ক, ব্লক সভাপতিদের জনবিচ্ছিন্নতার ছবিটা সামনে চলে এসেছিল। ঠিক তার পরেই গোপীবল্লভপুরের বিধায়ক চূড়ামণি মাহাতোকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই চূড়ামণিকে দেখা গেল চাষের ক্ষেতে কোদাল কোপাতে।

গামছা পরে কোদাল হাতে নিয়ে জমিতে নামলেন চাষের কাজে। কখনও আল দিতে দিতেই পাশের জমির কৃষকদের সঙ্গে সেরে নিলেন কুশল বিনময়, আবার মাঠের ধারে বসে জনসাধারণের কাজের জন্য সইও করে দিলেন। তাঁর বাড়িতে কেউ দেখা করতে এলেই, বাড়ির লোক বলে দিচ্ছেন, “মাঠে যান। পেয়ে যাবেন।” চূড়াবাবুর দুই নিরাপত্তারক্ষী মাঠের ধারে দাঁরিয়ে থাকছেন। কেউ কোনও কাজ নিয়ে এলেই ব্যাগ থেকে স্ট্যাম্প, প্যাড বার করে বিধায়কের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন।

অনেকের মতে, চুড়াবাবু আসলে কোদাল কুপিয়ে দলের শীর্ষনেতৃত্বকে বোঝাতে চাইলেন, তিনি মাটির কাছাকাছিই রয়েছেন। একই সঙ্গে এলাকার মানুষকে বার্তা দিলেন, ‘দেখো আমি তোমাদেরই লোক।’

স্থানীয় স্তরের নেতাদের লাগামহীন দুর্নীতির কথা উঠে এসেছিল তৃণমূলের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর্যালোচনায়। অভিযোগ ছিল, সরকারি প্রকল্পের টাকার ব্যাপক নয়ছয় হয়েছে। মানুষের কাছে যে প্রকল্পের সুবিধেগুলি পাওয়ার কথা ছিল, সেগুলিই তো যায়ইনি বরং নেতাদের সম্পত্তি বেড়েছে। খড়ের চালার ঘর থেকে পারাদোপম অট্টালিকা হয়েছে। যে নেতা আগে সাইকেলে ঘুরতেন, তাঁরই এখন এসইউভি গাড়ি।

তাহলে কি দিদির ঠ্যালা খেয়েই দলের হাল ফেরাতে কোদাল কোপাতে নামলেন চূড়ামণি?

প্রাক্তনমন্ত্রী অবশ্য বলছেন, এটা নতুন নয়। তিনি এই সময়ে প্রতিবছরই চাষের কাজে জমিতে নামেন। এই সময়ে তাঁর নাওয়াখাওয়ার সময় থাকে না। সকালে কোনও রকমে চা-বিস্কুট খেয়েই মাঠে নেমে পড়েন। তিনি বলেন, “চাষের কাজটা আমাদের প্রতি বছরই করতে হয় । বিধায়ক হওয়ার আগেও করেছি , মন্ত্রী থাকাকালীনও করেছি । চাষের কাজও হয় আবার গল্পও হয়।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More