মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৩

# Breaking: বাম আমলের তিন দফার মন্ত্রী যোগেশ বর্মন প্রয়াত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মারা গেলেন বাম আমলের চারবারের বিধায়ক ও তিনবারের মন্ত্রী যোগেশ বর্মন। ৬৯ বছর বয়সে বেঙ্গালুরুর এক বেসরকারি হাসপাতালে রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ মৃত্যু হয় তাঁর। দীর্ঘদিন ধরে লিভারের অসুখে ভুগছিলেন যোগেশবাবু। এক মাস ভর্তি ছিলেন কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে।

এককালের ডাকসাইটে সিপিএম নেতা যোগেশবাবুকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দক্ষিণ ভারতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসার জন্য প্রায় দেড় মাস সেখানে ছিলেন তিনি। তবে লিভার প্রতিস্থাপন ছাড়া অন্য রাস্তা খোলা নেই বলে সেখানকার চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন। দক্ষিণ ভারতে চিকিৎসা চলাকালীন প্রচুর টাকা খরচ হয়ে যায় প্রাক্তন বনমন্ত্রী ও অনগ্রসর কল্যাণ মন্ত্রীর। সে কারণে তাঁকে জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সম্প্রতি যোগেশবাবুর পরিবার খবর পান, বেঙ্গালুরুর এক বেসরকারি হাসপাতালে একটি লিভার পাওয়া যেতে পারে। খবর শুনেই শুক্রবার প্রাক্তন মন্ত্রীর পরিবার তাঁকে নিয়ে বেঙ্গালুরুর উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু যেতে দেরি হয়ে যাওয়ায় যাঁর লিভার প্রতিস্থাপনের কথা হয়েছিল, সেই রোগীর পরিবার দেহ নিয়ে চলে যান। ফলে গিয়েও লিভার পাওয়া যায়নি। সেখানেই রবিবার সকালে মৃত্যু হয় যোগেশবাবুর।

জানুয়ারি মাসে উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তীর কাছে এই খবর শোনেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ২৫ জানুয়ারি যোগেশবাবুর সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করে তাঁর সমস্ত চিকিৎসার ভার রাজ্য সরকার নেবে বলে আশ্বাস দেন মমতা। এই খবর শুনে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ হানা তাঁর ছেলে ধ্রুবজ্যোতি।

এ দিকে এই সাহায্যের আশ্বাস নিয়েও শুরু হয়ে যায় রাজনৈতিক তরজা। জলপাইগুড়ি জেলা সিপিএম-এর সম্পাদক মৃণাল রায় বলেন, “শুরু থেকে দল যোগেশবাবুর পাশে আছে। দল থাকবে। প্রাক্তন বিধায়ক বা মন্ত্রী অসুস্থ হলে রাজ্য সরকার চিকিৎসার খরচ বহন করবে বলে বাম আমলে আইন পাশ হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুধু তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন।” এই কাদা ছোড়াছুড়িতে বেজায় বিরক্ত হয়ে নিজের ফেসবুক ওয়ালে এসব বন্ধ করার আবেদনও জানান যোগেশবাবু।

Shares

Comments are closed.