২৭টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক কমে হচ্ছে ১২টি, কেন এই পথে হাঁটল সরকার?

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’বছর আগে স্টেট ব্যাঙ্কের সঙ্গে তার অনুসারী পাঁচটি ব্যাঙ্ককে মিশিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার। পরে গত বছর দেনা ব্যাঙ্ক ও বিজয়া ব্যাঙ্ককে ব্যাঙ্ক অব বরোদার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা হয়েছে।

    কিন্তু ব্যাঙ্ক জাতীয়করণের পর দশটি ব্যাঙ্ককে মিশিয়ে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে পরিণত করার মতো বড় সিদ্ধান্ত এই প্রথম। সরকার যাকে বলছে, মেগা মার্জার!

    কিন্তু প্রশ্ন হল, কেন এই মার্জারের পথে হাঁটল নরেন্দ্র মোদী সরকার?

    এ ব্যাপারে প্রশ্নের জবাবে শুক্রবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বলেন, ছোট রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা কম। তাদের ব্যবসার আয়তন কম বলে ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতাও কম। সেই কারণেই তাদের মিশিয়ে দেওয়া হল। তাঁর কথায়, স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার অনুসারী সব ব্যাঙ্ককে মিশিয়ে দেওয়ার হাতে নাতে ফল পাওয়া গিয়েছে। স্টেট ব্যাঙ্ক বিশ্ব বাজারে ব্যবসা করছে। একই ভাবে ব্যাঙ্ক বরোদার আর্থিক কাঠামোও মজবুত হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে উৎসাহী হয়েই এ বার মেগা মার্জারের সিদ্ধান্ত নিল সরকার।

    এ দিন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন অর্থ মন্ত্রকের সচিব রাজীব কুমারও। দশটি ব্যাঙ্ককে মিশিয়ে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এর ফলে কয়েকটি বড় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক তৈরি হল। স্টেট ব্যাঙ্ক রয়েছেই। সেই সঙ্গে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক, ওরিয়েন্টাল ব্যাঙ্ক অব কমার্স এবং ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া মিশে গিয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক তৈরি হবে। কানাড়া ব্যাঙ্ক ও সিন্ডিকেট ব্যাঙ্ক মিশে গিয়েও বড় ব্যাঙ্ক হবে। ব্যাঙ্ক বড় হলে তারা বড় লক্ষ্য স্থির করবে। আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যবসা বাড়াবে।

    রাজীব কুমারের কথায়, নতুন ব্যবস্থায় পূর্বতন ২৭টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক কমে গিয়ে মোট ১২টি ব্যাঙ্ক হবে। এর মধ্যে কয়েকটি ব্যাঙ্ক তৈরি হবে। বড় ব্যাঙ্ক বিশ্ব বাজারে কারবার করবে, মাঝারি ব্যাঙ্ক দেশীয় বাজারে ব্যবসা বাড়াবে এবং ছোট রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক স্থানীয় বাজারে কাজ করবে।

    গতকালই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, গত আর্থিক বছরে ব্যাঙ্ক জালিয়াতির পরিমাণ ৭৪ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। ৭১ হাজার কোটি টাকার বেশি জালিয়াতি হয়েছে। মূলত দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি থেকে ধার নিয়ে শোধ না করাতেই এই ক্ষতি হয়েছে।

    যদিও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এ দিন বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত অনাদায়ী ঋণের বোঝা গত এক বছরে কমেছে। ১ লক্ষ ২১ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে পেরেছে ব্যাঙ্কগুলি। তা ছাড়া অনাদায়ী ঋণের সামগ্রিক বোঝাও কমে ৭.৯০ শতাংশ হয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More