চাকদহ থেকে সাইকেলে ৩৫ কিলোমিটার গিয়ে ডিউটি করছেন শান্তিপুরের দমকলকর্মী সুনন্দন

লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে তিনি এভাবেই সংসার ও কর্মস্থল সামলে আসছেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত তাই দেশজোড়া লকডাউনের সময় এক দিনের জন্যও অফিস কামাই করা সম্ভব নয়। শান্তিপুর অগ্নিনির্বাপণ কেন্দ্রের কর্মী সুনন্দন কর্মকারও তা করছেন না যদিও অন্যদের চেয়ে তাঁর পরিস্থিতি আলাদা। ৩৫ কিলোমিটার দূরে অফিসে তিনি যাচ্ছেন সাইকেলে চেপে। ফিরছেনও সেই একই ভাবে। সংসার আর অফিস এভাবেই তিনি সামলাচ্ছেন।

    সুনন্দন কর্মকারের বাড়ি নদিয়ার চাকদহ পুরসভার কুড়ি নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাচল বিদ্যাপীঠের কাছে। দমকল বাহিনীতে যোগ দিয়ে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে অবস্থা যতই প্রতিকূল হোক না কেন কাজ করে যাবেন। এখন দেশজোড়া লকডাউনের জেরে বাস ও ট্রেন বন্ধ। নিজের মোটরবাইক নেই। এদিকে অফিসেও যেতে হবে। তাই সাইকেলে চেপেই যাতায়াত করছেন তিনি। তবে রোজ নয়। সপ্তাহে দু’দিন।

    ২০০৪ সালে তিনি ফায়ার ফাইটার হিসেবে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। এরপর ২০০৮ সালে শান্তিপুর অগ্নিনির্বাপণ কেন্দ্রে ফায়ার ইঞ্জিন ড্রাইভার কাম অপারেটর হিসেবে যোগ দেন। তখন থেকে এখানেই কর্মরত। এখানে কর্মীর সংখ্যা কম থাকায় সেভাবে ছুটি পাওয়া যায় না। এখন লকডাউন। দূরে বাড়ি বলে ছুটি নিতে পারবেন না। অফিসে থেকে গেলে আবার সংসার চলবে না। দু’দিক সামলাতেই তাঁকে যাতায়াত করতে হচ্ছে এবং সাইকেলে চেপে।

    এর আগে কখনও এই ধরনের পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়নি। চিরকালই বাসে অথবা ট্রেনে চেপে কাজে যোগ দিয়েছেন। এখন তা হচ্ছে না।

    তিনি জানান যে এখনও বাড়িতে থাকলে সাইকেলে চেপেই সব কাজ সারেন। লকডাউন হতেও সেই সাইকেলকেই বেছে নিয়েছেন। লকডাউন ঘোষণার পরে কর্তব্যরত অবস্থায় আটকে পড়েছিলেন শান্তিপুরের অগ্নিনির্বাপণ কেন্দ্রে নিজের অফিসে। তখন অফিসের পাশে থাকা এক বন্ধুর সাইকেল চেয়ে নিয়ে বাড়িতে ফেরেন। প্রথম দিন খুবই কষ্ট হয়েছিল। এই কদিনে অবশ্য অনেকটাই অভ্যাস করে ফেলেছেন। তিনি বলেন, “আমি এমন একটি পেশার সঙ্গে যুক্ত যেখানে আবেগের কোনও দাম নেই। কর্তব্য রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় কথা।”

    শান্তিপুর অগ্নিনির্বাপণ কেন্দ্রে মোট কর্মীর সংখ্যা ১৯। কাছাকাছি বাড়ি রয়েছে দুই কর্মীর তবে বাকিদের সকলেরই বাড়ি বেশ কিছুটা দূরে। এই কদিন কেউ পাকাপাকি ভাবে এখানে থেকে যাচ্ছেন আর বাকিরা মোটরবাইকে যাতায়াত করছেন। ব্যতিক্রম একা সুনন্দন। এই কেন্দ্রের অফিসার ইনচার্জ শ্যামসুন্দর পণ্ডিত বলেন, “প্রত্যেক কর্মীই সমস্যা নিজের মধ্যে রেখে এখানে কাজ করছেন। তাঁদের জন্য আমি গর্বিত।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More