মঙ্গলবার, মার্চ ২৬

চাকরি দেওয়ার নামে ‘প্রতারণা’, বহিষ্কৃত তৃণমূল সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেআইনি অস্ত্র মামলায় তাঁর আপ্তসহায়ক ইতিমধ্যেই হাজতে। এ বার তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত এবং মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপি-তে যোগ দেওয়া বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-এর বিরুদ্ধে চাকরির নামে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হলো বড়জোড়া থানায়।

শুক্রবার রাতে প্রশান্ত মণ্ডল নামের এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন থানায়। জানা গিয়েছে, এই প্রশান্ত মণ্ডল আবার সৌমিত্রর পিসতুতো ভাই। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, চাকরি দেওয়ার নাম করে তাঁর থেকে মোটা টাকা নিয়েছিলেন সৌমিত্র। চাকরি তো পানইনি। ফেরত পাননি টাকাও।  পুলিশও এই অভিযোগের কথা স্বীকার করে নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগেই জোড়া বহিষ্কারের পালা সেরেছিল তৃণমূল। বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-এর সঙ্গেই বহিষ্কৃত হয়েছিলেন বোলপুরের তৃণমূল সাংসদ অনুপম হাজরা। বহিষ্কারের আগের দিনই ফেসবুকে বোমা ফাটিয়েছিলেন সৌমিত্র। অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে খুন করার ষড়যন্ত্র করছেন বিষ্ণুপুরের এসডিপিও সুকোমল দাস। ফেসবুক লাইভে এবং স্টেটাস পোস্ট করে বিষ্ণুপুরের ‘বিতর্কিত’ সাংসদ বলেছিলেন, তাঁর আপ্তসহায়ক গোপীকে গুম করা হয়েছে। এই অভিযোগ তোলার পরের দিনই বিজেপি সদর দফতরে গিয়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন মুকুল রায়ের স্নেহধন্য সৌমিত্র। এ দিকে বাঁকুড়া পুলিশ বেআইনি অস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেফতার করে সুশান্ত দাঁ ওরফে গোপীকে।

যদিও, সৌমিত্রর বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলাকে বিশেষ পাত্তা দিতে রাজি নন বিজেপি নেতারা। দলের এক মুখপাত্রের কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের এই ছক এখন বাংলার শিশুও জানে। বিরোধিতা করলেই হয় প্রতারণা, না হয় গাঁজা বা অস্ত্র আইনে কেস  দেয় তৃণমূলের দলদাস পুলিশ। এ সব করে তৃণমূলের ভাঙন ঠেকানো যাবে না।” যে দিন সৌমিত্র বিজেপি-তে যোগ দিচ্ছেন, সে দিনই মুকুল রায় বলেছিলেন, “এরপর ওঁর (পড়ুন সৌমিত্রর) আপ্তসহায়ককে কেস দিয়ে হয়তো জেলে পুড়বে। ওঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনবে। দেখতে থাকুন কত কী হয়!”

একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড মুকুল রায় দল ছাড়ার পর তাঁর বিরুদ্ধেও চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার মামলা দায়ের হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, একজনকে চাকরি পাইয়ে দেবেন বলে মুকুল রায় নাকি ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। সেই মামলা নিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন মুকুল। আদালত রায় দিয়েছে কোনওভাবেই এই মামলায় মুকুলকে গ্রেফতার করা যাবে না। এখন সৌমিত্রর ক্ষেত্রে পুলিশ আর কত দূর এগোয় এখন সেটাই দেখার।

Shares

Comments are closed.