মঙ্গলবার, মার্চ ২৬

অকপট অর্জুন: দিদি বলেছিলেন দীনেশদাকে জেতাতে হবে, আমি বলেছিলাম জিতবে না

চার বারের বিধায়ক। বামেদের রমরমা জমানাতেও ভাটপাড়ায় ঘাসফুল ফুটিয়েছিলেন ‘আজকা অর্জুন’। ২০০৬-এর বিধানসভা ভোটে বাংলা যখন লালে লাল, ভাটপাড়ার গণনা কেন্দ্র থেকে সবুজ আবির মেখেই বেরিয়েছিলেন  ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের ‘স্ট্রংম্যান’ অর্জুন সিং। কিন্তু এ বার লোকসভায় দিদি তাঁকে টিকিট না দেওয়ায়, তিরিশ বছরের ‘সম্পর্ক’ ছিন্ন করেছেন তাঁর সঙ্গে। যোগ দিয়েছেন গেরুয়া শিবিরে। আপাতত রাজ্য রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে উত্তর চব্বিশ পরগনার ‘বাহুবলী নেতা’ অর্জুন সিং। বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই দ্য ওয়াল-এর প্রতিনিধি অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়এর সব প্রশ্নের খোলামেলা উত্তর দিলেন শিল্পাঞ্চলের এই দাপুটে নেতা।

প্রশ্ন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এতদিনের সম্পর্ক, হঠাৎ কী এমন হল যে দূরত্ব তৈরি হল?

অর্জুন: কোথাও কোনও সমস্যা ছিল না। এখনও নেই। কিন্তু অনেক দিন থেকেই তৃণমূলের পুরনো লোকজনকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছিল। যারা প্রথম থেকে দলটা করল, তাদের যদি এই অবস্থা হয়, তবে চলবে কী করে! আর এখন তো সব ছেড়ে দলে শুধু টাকা টাকা চলছে। এটা অদ্ভুত একটা পরিস্থিতি। আরেকটাও বড় ব্যাপার রয়েছে, পুলওয়ামার ঘটনায় অনেক সেনার মৃত্যু হল। কিন্তু এই ঘটনা নিয়ে দিদির বক্তব্য পছন্দ হয়নি আমার। দেশের লোকজনও দিদির কথার নিন্দা করেছে। সেনারা তো আমাদের বাড়িরই লোকজন। ভাটপাড়া না হোক আমাদের বিহারেরও অনেক জনের মৃত্যু হয়েছে। এটাও মন ভেঙে যাওয়ার আরেকটা কারণ বলে ধরে নিন।

প্রশ্ন: আপনার কি মনে হয়, ২০০৯ বা ২০১৪ সালেই ব্যারাকপুর লোকসভায় আপনাকে প্রার্থী করা উচিত ছিল?

অর্জুন: প্রশ্ন করলেন বলে বলছি, ২০০৪ সালের নির্বাচনে এ রাজ্যে ৪২টি আসনের ৪১টিতেই হেরে যায় তৃণমূল। কিন্তু দিদিই একমাত্র জিতেছিলেন। ওই সময় ব্যারাকপুর থেকে আমিও হেরে গিয়েছিলাম। ওটা কি আমার দোষ ছিল? কিন্তু তাতে এ বার টিকিট পেতে অসুবিধা কাথায় ছিল! আমার কথা শোনাই হল না।

প্রশ্ন: তখন বিদ্রোহ করেননি কেন ?

অর্জুন: তখনও অনেকবারই বলেছি। কিন্তু কেই শোনেনি। ভেবেছিলাম পরে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর হল কই!

প্রশ্ন: তৃণমূল বলছে আপনাকে নাকি বিহারে প্রার্থী হতে বলা হয়েছিল?  পরে আসানসোল আসন অফার করা হয়েছিল?

অর্জুন: না, কিছুই অফার করা হয়নি। বাজারে গল্প কথা চলছে। বিহার তো আমি এমনিই দেখি।

প্রশ্ন: নবান্নে দীনেশ ত্রিবেদী ও আপনাকে একসঙ্গে ডেকে মমতা ব্যানার্জি কী প্রস্তাব দেন?

অর্জুন: কোনও প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। তবে উনি ডেকেছিলেন। আমি গিয়েছিলামও। সেখানে বলা হয়, দীনেশদাকে জিতিয়ে দিতে হবে। আমি বলি, ওনার জেতার সম্ভাবনা প্রায় নেই। ওনাকে মানুষ এলাকায় পায় না। সবাই রেগে রয়েছে। কিন্তু তাও উনি বলেন, তোমাকেই ওনাকে জিতিয়ে দিতে হবে। আমি এ সব বলার পরেও উনি বারবারই একই কথা বলেন। এর পরে আমার আর কিছু করার ছিল না। আমি বাধ্য হয়েই ছেড়ে দিলাম।

প্রশ্ন: ভোটের পর মন্ত্রী করা হবে বলে নাকি আপনাকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল?

অর্জুন: না কিছুই বলা হয়নি।

প্রশ্ন: মমতা ও দীনেশ আপনার নাম না করে বলছেন,  কিছু লোকের বেশি লোভ। আপনি কী বলবেন ?

অর্জুন: বাংলার মানুষ দেখছে। নতুন করে আমার কিছুই বলার নেই।

প্রশ্ন: মুকুলবাবু তৃণমূল ছাড়ার পর আপনিই এক সময় তাঁকে গদ্দার বলেছিলেন। এখন তাঁরই হাত ধরলেন। বলছেন,  উনি কৃষ্ণ। এটা কি ডিগবাজি নয়?

অর্জুন: কী আর বলব, এটা রাজনীতির গল্প….

Shares

Comments are closed.