সোমবার, জুলাই ২২

হাতিদের মন বুঝতেন তিনি, চলে গেলেন ধৃতিকান্ত লাহিড়ী চৌধুরী

নিলয় দাস

চলে গেলেন হাতির মন বোঝা বাঙালি। প্রয়াত হলেন হাতি বিশারদ ধৃতিকান্ত লাহিড়ী চৌধুরী। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। শুক্রবার সকালে কলকাতায় নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ধৃতিকান্তবাবু। দুপুরে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

হাতির সঙ্গে তাঁর সাত দশকের সম্পর্ক। ধৃতিকান্তবাবুর মৃত্যুতে শোকাহত রাজ্যের বন দফতরের কর্তা থেকে মাহুত, হাতি-প্রেমিক সকলে। রাজ্যের বন মন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মন ধৃতি কান্ত বাবুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলায় ১৯৩১ সালে জন্মগ্রহণ করেন ধৃতিকান্ত লাহিড়ী চৌধুরী। ছোট বেলা থেকে বন্য জন্তুদের কাছ থেকে দেখে এসেছেন তিনি। পূর্ববঙ্গে তাঁর বাড়িতে কয়েকটি পোষা হাতি ছিল। হাতিকে সঙ্গী করেই বেড়ে ওঠা ধৃতিকান্তবাবুর। শিকারি হিসাবে নাম করেন তিনি। শিকার করতে এসে উত্তরবঙ্গ তথা অসমের জঙ্গল কে হাতের তালুর মতো চেনা গিয়েছিল তাঁর। এমনকি উত্তরবঙ্গের হাতিদের চারিত্রিক নানান ব্যাপার এতটাই ভালোভাবে জানতেন তিনি যে, হাতি সংক্রান্ত কোনও সমস্যায় পড়লে বন দফতরের কর্তারা ধৃতিকান্তবাবুর শরণাপন্ন হতেন। বন দফতরের নজরদারি সহ নানান কাজে ছয়ের দশক থেকে প্রচুর হাতির প্রয়োজন হয়ে পড়ে। ভাল জাতের হাতি কেনার জন্য কয়েক দফায় বন দফতরকে শোনপুর মেলা থেকে হাতি কিনে আনতে হয়েছিল। কোন হাতির জাত কেমন তা হাতির কিছু আচরণ দেখেই বুঝে ফেলতেন ধৃতিকান্তবাবু। তাই শোনপুরে হাতি কিনতে তাঁকেই যেতে হতো বারবার।

বন দফতরেরর অবসরপ্রাপ্ত মুখ্য বন পাল উজ্জ্বল ভট্টাচার্যের কথায়, “হাতিঘটিত কোন সমস্যার সম্মুখীন হলে আমরা ধৃতিকান্তবাবুর পরামর্শ নিতাম। ওঁর মৃত্যুতে একটি বিরাট ক্ষতি হল। হাতিদের পিল খানা, তাদের পরিচর্যা, খাদ্যাভ্যাস-সহ নানান বিষয়ে তাঁর পরামর্শ নিতাম নিয়মিত।”

বহু বছর তিনি রাজ্য সরকারের বন্য প্রাণী বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ছিলেন। হাতিদের বিষয়ে বেশ কিছু বই লেখেন তিনি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘হাতিদের বই’ এবং ‘জীবনের ইন্দ্রধনু।’ আনন্দ পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।

অসমের হাতি বিশারদ পার্বতী বড়ুয়া ধৃতি কান্ত বাবুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। পার্বতীদেবীর কথায়, আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক ছিল ধৃতিকান্তবাবুর সঙ্গে। পার্বতী দেবীর বাবা লালজি বড়ুয়া উত্তরবঙ্গ ও অসমের বহু জংলি হাতিকে পোষ মানাতেন। আর সেই সূত্রে লালজি-র সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ছিল ধৃতিকান্তবাবুর।  জলদাপাড়া হোক বা গরুমারা, কুনকি হাতির চারিত্রিক বৈশিষ্ট কী, তা গড়গড় করে বলে দিতেন সদ্য প্রয়াত ধৃতিকান্ত।

এক কথায়, হাতিদের ‘এনসাইক্লোপিডিয়া’ আর রইলেন না।

 

Comments are closed.