রবিবার, আগস্ট ১৮

লাটাগুড়ির জঙ্গলে লেজ তুলে হাতির দৌড়, তাড়া করলো পর্যটকদের জিপকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জঙ্গলের মাঝে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল পর্যটকদের গাড়ি। সাফারি সেরে হোটেলে ফিরছিলেন একদল পর্যটক। হঠাৎই নড়ে উঠল একপাশের জঙ্গল। গাছের ফাঁক দিয়ে দুলকি চালে বেরিয়ে এল পূর্ণবয়স্ক একটা হাতি। এত কাছ থেকে হাত দেখে লোভ সামলাতে পারেননি অনেকেই। ঝটপট ক্যামেরা বের করে ছবি তুলতেও শুরু করে দেন কেউ কেউ।

কিন্তু এসব মোটেও পছন্দ হয়নি হাতিটির। আচমকাই লেজ উঁচিয়ে ধুলো উড়িয়ে ছুটতে শুরু করে সে। শুধু ছুটেই ক্ষান্ত হয়নি, সামনে থাকা একটি জিপকে রীতিমতো ধাওয়া করে বেশ কিছুটা দ্রুত গতিতে এগিয়ে যায় হাতিটি। দাঁড়িয়ে যায় উল্টো দিক থেকে আসা একটি বাস। বাইক নিয়ে পালাতে দেখা যায় এক ব্যক্তিকে। ভয়ে-আতঙ্কে চিল-চিৎকার জুড়ে দেন পর্যটকরা। যাত্রীদের চিৎকারে টনক নড়ে জিপের চালকের। গতি বাড়ান তিনি। বরাতজোরে এ যাত্রায় গজপতির হাত থেকে উদ্ধার পেয়েছেন পর্যটকরা।

শনিবার গরুমারা ফরেস্টে বেড়াতে এসেছিলেন পর্যটকরা। জঙ্গল সাফারি সেরে বিকেলে ফিরে যাচ্ছিলেন হোটেলে। কিন্তু লাটাগুড়ি এলাকার মহাকাল ধাম পার হতেই দর্শন মেলে এই হাতিটির। বন-বাদাড় ভেদ করে বেরিয়ে সটান ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে উঠে পড়ে হাতিটি। তারপরেই ধাওয়া করে একটি জিপকে। প্রথমে খানিক হতবাক হলেও ক্ষণিকের মধ্যেই প্রাণ যে যেদিকে পারেন ছুটে পালান।

জাতীয় সড়কে এর আগেও বহুবার পর্যটকদের গাড়িকে ধাওয়া করেছে হাতি। কখনও একা, কখনও বা দলবদ্ধ ভাবে। এ দিনের ঘটনা শুনে অনারারি ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন সীমা চৌধুরী জানিয়েছেন, ওই রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করানোর কথা নয়। অনুমান, গাড়ি দাঁড় করিয়ে কোনওভাবে উত্ত্যক্ত করা হয়েছে হাতিটিকে। আর তার ফলে ক্ষেপে গিয়ে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসে হাতিটি। এবং রাস্তায় উঠে সোজা তেড়ে যায় একটি জিপের দিকে। যদিও গোটা ঘটনাটি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন সীমা চৌধুরী।

Comments are closed.