শনিবার, আগস্ট ১৭

‘পুলিশি নির্যাতন’-এর প্রতিবাদে বাবুলের বরাকর থানা অভিযান নিয়ে রিপোর্ট চাইল কমিশন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বরাকর ফাঁড়িতে ঢুকে পুলিশ আধিকারিককে বাবুল সুপ্রিয়র হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে নড়েচড়ে বসল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট চাইল কমিশন।

শনিবার সন্ধে বেলা স্থানীয় বেশ কিছু মহিলা ও বিজেপি কর্মীর সঙ্গে বরাকর ফাঁড়িতে অভিযান করেন  আসানসোলের বিদায়ী সাংসদ তথা এ বার ভোটেও সেখানকার বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বাবুল এক কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিককে বলছেন, “তুমি যে প্রশ্নটা করেছ, ওটা তোমার মাকে গিয়ে করব, চলো।” অন্য এক বিজেপি কর্মীকে, পুলিশকে তুইতোকারি করে সম্বোধন করতেও শোনা যায় ওই ফুটেজে। ক্লিপিংস প্রকাশ্যে আসতেই কমিশন রিপোর্ট তলব করল জেলা প্রশাসনের কাছে। থানায় বাবুলের সঙ্গে যান স্থানীয় মহিলারাও। সদ্যোজাত শিশু কোলে মা ছুটে যান ফাঁড়িতে। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ তাণ্ডব চালিয়েছে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে ঢুকে। উর্দি গায়ে পুলিশ যা করেছে, তা কোনও সভ্য সমাজে হয় না। মহিলাদের সঙ্গে যা করেছে তা প্রায় শ্লীলতাহানির পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল।

অন্য দিকে আগেই বাবুলের নির্বাচনী প্রচার গান ‘এই তৃণমূল আর না’ নিষিদ্ধ করার কথা ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। শো কজ করা হয়েছিল গায়ক সাংসদকে। কমিশন সোমবার প্রথমে জানায়, বাবুলের জবাবে তারা সন্তুষ্ট নয়। তাই এফআইআর করা হচ্ছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও বাবুল সুপ্রিয়র বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ হয়েছে। তা হল, পদযাত্রায় নির্বাচন কমিশনের ক্যামেরাম্যানকে ছবি তুলতে বাধা দিয়েছিলেন তিনি। এই কাণ্ডেও কেন্দ্রীয় ভারি শিল্প দফতরের প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক একটি এফআইআর করা হচ্ছে।

যদিও বাবুল তথা বিজেপির দাবি, এ রকম কোনও এফআইআর তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়নি। এটা রাজ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতর থেকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।

এলাকার লোকজন সঙ্গে নিয়ে ফাঁড়ির মধ্যে ঢুকে পুলিশ আধিকারিককে হুমকির অভিযোগে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। জানা গিয়েছে, রামনবমীর এবং সবেবরাত নিয়ে আসানসোল লোকসভার অন্তর্গত বরাকরে উত্তেজনা তৈরি হয়।

একটি এলাকার যুবকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি করছিল। এরপর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে, এলাকায় টহলদারি শুরু করে পুলিশ। বেশ কিছু অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি হয়। বিজেপি-র অভিযোগ, তল্লাশির নাম করে পুলিশ গিয়ে মহিলাদের সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলেছে।

তাই অন্য রাস্তায় না হেঁটে একেবারে তাওয়া গরম থাকতে থাকতে স্পটে পৌঁছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় গেরুয়া শিবির। নেতৃত্বে বাবুল। এমনিতে বাবুল এ সব ব্যাপারে কোনও কিছুর পরোয়া করেন না। গত মাসেই আসানসোল যাওয়ার পথে দেখেছিলেন যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ শক্তিগড়ে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের ধারে দড়ি দিয়ে ব্যারিকেড করেছিল। সেই দড়ি খুলে দিয়ে সগর্বে ‘পিসির ভাইপোর নিরাপত্তার দড়ি খুলে দিয়েছি’ বলে টুইট করেছিলেন বাবুল।

প্রসঙ্গত, থানায় ঢুকে পুলিশ আধিকারিকদের ধমকানো-চমকানো বাংলায় নতুন নয়। বেশ কয়েক বছর আগে এমনই একটি ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল দাপুটে তৃণমূল নেত্রী তথা সাতগাছিয়ার তৃণমূল বিধায়ক সোনালি গুহর। নোদাখালি থানায় ঢুকে তৎকালীন নোদাখালি থানার আইসি-কে সোনালি বলেছিলেন, “অ্যাই …… বাচ্চা। মেরে জিভ টেনে ছিঁড়ে দেব।” ফলে বাবুলের ঘটনা নতুন নয়।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা আসানসোলে। ২৯ তারিখ ভোট। প্রধানমন্ত্রীর সভার আগের দিনই কমিশনের ত্রিফলা চাপ পড়ল তাঁর উপর। যদিও বাবুল এ নিয়ে ভাবতে চাইছেন না। বরাকর ফাঁড়ির ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, “খান নামের এক পুলিশ অফিসার ঘরে ঘরে ঢুকে  মহিলাদের সঙ্গে যা তা করেছেন। স্বতঃস্ফূর্ত ভাবেই স্থানীয়রা ফাঁড়িতে পৌঁছে যান। পুলিশ যদি এই কাজ করে, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোটা তো জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার কর্তব্য। যে ভাষা বোঝে, সে ভাষাতেই জবাব দেব। আমি হাতে চুড়ি পরে বসে নেই।”

কমিশনের রিপর্ট তলব প্রসঙ্গে বাবুল বলেন, “কমিশন কী রিপোর্ট চাইবে! আমি তো এই ঘটনা নিয়ে মহিলা কমিশন, মানবাধিকার কমিশন এমনকী সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাব।” গান নিয়ে গায়ক নেতার বক্তব্য, “রাস্তায় গান বাজতেই পারে। এ তো আর রেডিও, টিভিতে বাজেনি। দলের তরফে জবাব দেওয়া হয়েছে। কমিশন ফের কিছু জানালে দল ব্যাপারটা দেখবে।”

Comments are closed.