অনুব্রতর বীরভূমে ১০০ শতাংশ বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী, জানাল কমিশন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার আসানসোলে গিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক অজয় নায়েক জানিয়েছিলেন, লোকসভা নির্বাচনের দিন সেখানকার সব বুথে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বুধবার বীরভূমের সিউড়িতে গিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করলেন অজয় নায়েক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শাসক-বিরোধী সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। বৈঠকের পর বিশেষ পর্যবেক্ষক জানিয়ে দিলেন, বীরভূমেও নির্বাচনে সব বুথে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। অর্থাৎ রাজ্য পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হবে না কোনও বুথের।

    বুধবার প্রশাসনিক বৈঠকের পর বেরিয়ে অজয় নায়েক বলেন, “বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী না থাকলে ভোটের দিন কারচুপি করতে পারে শাসক দল। এছাড়াও প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের সঙ্গেও সুরক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপারে কথা বলেছি। তারপরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এই জেলায় ১০০ শতাংশ বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়েই নির্বাচন করা হবে।”

    বিশেষ পর্যবেক্ষকের এই সিদ্ধান্তের পর বীরভূমের এক বিজেপি নেতার বক্তব্য, “প্রথম তিন দফার ভোটে ভালো কাজ করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সে সব বুথে রাজ্য পুলিশ ছিল সেখানেই কারচুপি করার চেষ্টা করেছে তৃণমূল। আমরা বারবার কমিশনের কাছে এ ব্যাপারে আবেদন করেছি। কমিশন জানিয়েছে চতুর্থ দফার ভোটে ৯৮ শতাংশ বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। তৃণমূল জানে বীরভূমের দুটি লোকসভার বিদায়ী সাংসদ শতাব্দী রায় ও অনুপম হাজরা কোনও কাজ করেননি এই জেলার জন্য। তাই এ বার বীরভূম জেলার লোক বিজেপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনবেন। আমরা বিশেষ পর্যবেক্ষকের কাছে জানিয়েছিলাম, তৃণমূল ভোট লুঠ করার চেষ্টা করতে পারে। তারপরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাচ্ছি।”

    এই ব্যাপারে স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার বক্তব্য, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর জানিয়েছ দিয়েছেন, যত কেন্দ্রীয় বাহিনী আসুক না কেন, বিজেপি কিছুই করতে পারবে না। কারণ মানুষ ভোট দেবেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়। আর মানুষ জানেন, তৃণমূল গত পাঁচ বছরে রাজ্যের কত উন্নয়ন করেছেন। তাই ১০০ শতাংশ বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিলেও জয় আমাদেরই হবে।” তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ” ১০০ শতাংশ কেন, ২০০ শতাংশ কেন্দ্রীয় বাহিনী দিক না। তাহলেও আমার ১০০ শতাংশ জয় হবে।”

    দফা যত বেড়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর পরিমাণ বেড়েছে রাজ্যে। প্রথম দফায় ৮৩ কোম্পানি, দ্বিতীয় দফায় ২০০ বাহিনী, তৃতীয় দফায় ৩২৪ কোম্পানি আধাসেনা মোতায়েন ছিল। তৃতীয় দফায় ৯২ শতাংশ বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল। চতুর্থ দফায় আরও বেশি অর্থাৎ ৯৮ শতাংশ বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন। অর্থাৎ আধাসেনার পরিমাণ আরও বাড়ানো হচ্ছে।

    পর্যবেক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও হিংসার ঘটনায় এই জেলা ছিল রাজ্যের মধ্যে অন্যতম। পাড়ুই, লাভপুর, সাঁইথিয়া, মহম্মদবাজার, ইলামবাজার, বোলপুর-সহ বীরভূমের বেশিরভাগ এলাকাতেই সংঘর্ষ হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের কাছে সে সবের রিপোর্ট রয়েছে। আর তাই লোকসভার আগে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইলেন না কমিশনের। বীরভূমের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১০০ শতাংশ বুথে মোতায়েন করা হলো কেন্দ্রীয় বাহিনী।

    আরও পড়ুন

    আইনজীবীদের ‘তাণ্ডব’, অবরুদ্ধ হাওড়া কর্পোরেশন, চাবি কেড়ে নেওয়া হল অ্যাম্বুলেন্সের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More