শনিবার, জানুয়ারি ২৫
TheWall
TheWall

‘ঝাঁটা হাতে তাড়া’ ও ‘রঙিন জল’: দুই দলের দুই নেতাকে শোকজ কমিশনের

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুকথা রুখতে ফের তৎপর কমিশন। এ বার শোকজ করা হল রাজ্যের মন্ত্রী রত্না ঘোষ কর এবং বিজেপি-র নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মহাদেব সরকারকে। বুধবার কমিশনের পক্ষ থেকে শোকজ করা হয়েছে তৃণমূল ও বিজেপি-র এই দুই নেতা নেত্রীকে।

কয়েক দিন আগেই কর্মিসভা করছিলেন চাকদহের বিধায়ক রত্না। কয়েক মাস আগে রাজ্য মন্ত্রিসভার রদবদলে দিদি তাঁকে মন্ত্রীও করেছিলেন। সেই সভাতেই কর্মীদের ভোকাল টনিক দিতে রত্না বলেন, “২০১৬তে আমদের কর্মীরা সেন্ট্রাল ফোর্সের তাড়া খেয়েছিল। রক্তাক্ত হয়েছিল আমাদের কর্মীরা। এ বারের চ্যালেঞ্জ আরও বেশি। কোনও চিন্তা নেই। আমি ভোটের দিন অঞ্চলে অঞ্চলে বুথে বুথে যাব। কোনও সেন্ট্রাল ফোর্স আমরা তোয়াক্কা করি না। যেখানে বাড়াবাড়ি করবে, আমি মহিলা সংগঠনের নেতৃত্বকে বলব ঝাঁটা হাতে তাড়া করে সেন্ট্রাল ফোর্সকে এলাকা ছাড়া করে দেবেন।” এই মন্তব্যের জন্যই নদিয়ার দোর্দণ্ডপ্রতাপ এই নেত্রীকে শোকজ করল কমিশন।

কৃষ্ণনগর লোকসভায় এ বার তৃণমূল প্রার্থী করেছে মহুয়া মৈত্রকে। এমনিতে মহুয়া নদিয়ার করিমপুরের বিধায়ক। প্রথম থেকেই অনেকের তুলনায় স্মার্ট এই তৃণমূল নেত্রী। আটপৌড়ে নন। তাঁর পোশাক, স্টাইল স্টেটমেন্টে একটা শহুরে ছাপ রয়েছে। তাপস পালের আসনে এ বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর উপরেই ভরসা রেখেছেন। কিন্তু তাঁকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করার বদলে বিজেপি জেলা সভাপতি মহাদেববাবু ব্যক্তি আক্রমণ করে বসেন। বলেন, “মহুয়া দেবী, আপনি তো নিজেকে উচ্চশিক্ষিতা বলে দাবি করেন। বলেন, বিদেশে পড়াশুনা করেছেন। কিন্তু আপনি ভারতীয় নারীর সংস্কৃতি ভুলে গিয়েছেন। রাত হলে আপনি রঙিন জল সেবন করেন। এটা কোনও ভারতীয় নারীর শোভা পায় না।” এ নিয়ে মহুয়া মামলাও করেছেন মহাদেবের বিরুদ্ধে। এ বার শোকজ করল কমিশন।

এর আগে নকুলদানা তত্ত্বের জন্য অনুব্রত মণ্ডলকে শোকজ করেছিল নির্বাচন কমিশন। শোকজ করা হয়েছিল রাজ্য বিজেপি-র অন্যতম সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুকে। বসিরহাট কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সায়ন্তন একটি বক্তৃতায় বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন।

কমিশন যে কুকথায় বা বক্তৃতায় হিংসা ছড়ানোর ব্যাপারে কঠোর তার নিদর্শন আগেই দিয়েছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং বিএসপি নেত্রী মায়াবতীকে ৭২ ও ৪৮ ঘণ্টা সেন্সর করেছিল কমিশন। বাংলাতেও যে তারা একই রকম কঠোর তা বুঝিয়ে দিল আরও একবার।

Share.

Comments are closed.