রবিবার, এপ্রিল ২১

তৃণমূল যতই ‘নিকম্মা’ বলুক, নিরপেক্ষতার প্রশ্নে কঠোর কমিশন, সরাতে পারে ডিজিকেও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা ও বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারকে নির্বাচন কমিশন রাতারাতি বদলি করে দেওয়ার পরদিনই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি পক্ষপাতের অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। দু’দিন পর সাংবাদিক বৈঠক করে কমিশনকে ‘নিকম্মা’ বলে মন্তব্য করেছিলেন তৃণমূল মুখপাত্র ডেরেক ও ব্রায়েন।

কিন্তু কমিশন সূত্রে বলা হচ্ছে, এতে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন তাঁরা। ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে যা যা করার তা করে যাবেন কমিশনের কর্তারা। নয়াদিল্লির নির্বাচন সদনের এক কর্তার কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতোই কমিশনের তীব্র সমালোচনা করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু। কিন্তু কমিশন সেখানেও রেয়াত করেনি। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যসচিব নির্দ্বিধায় সরিয়ে দিয়েছে। বাংলাতেও প্রয়োজনে এর অন্যথা করবে না কমিশন।

সূত্রের খবর, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফার ভোট তথা ১৮ এপ্রিলের আগে উত্তরবঙ্গে আরও একজন বা দুজন পুলিশ সুপার বা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে রাতারাতি বদলি করে দিতে পারে কমিশন। সেই সঙ্গে রাজ্য পুলিশের উপরতলাতেও বড় রদবদল হতে পারে। এমনকী রাজ্য পুলিশের ডিজি-র পদ থেকে বীরেন্দ্রকে সরাতে পারে কমিশন। শুধু তাই নয়, ভোটের কোনওরকম দায়িত্ব যেন তাঁর হাতে না থাকে, তাও নিশ্চিত করা হতে পারে।

প্রসঙ্গত, রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই হানার প্রতিবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মতলায় যে ধর্না দিয়েছিলেন, সেখানে দেখা গিয়েছিল বীরেন্দ্র। সেই ছবি দেখিয়ে কমিশনের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে এরই মধ্যে অভিযোগ জানিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব।

শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, দক্ষিণবঙ্গে পুলিশ মোতায়েন নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে কমিশন। কমিশনের তরফে নিযুক্ত বিশেষ কেন্দ্রীয় পুলিশ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে শুক্রবার দুপুরে কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজেশ কুমারের সঙ্গে ফের বৈঠক করেন। এ নিয়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দু’বার বৈঠক করলেন তিনি।

তাৎপর্যপূর্ণ হল, রাজেশ কুমারের সঙ্গে বিবেক দুবের ঘন ঘন বৈঠক নিয়েও সন্দিহান তৃণমূল নেতৃত্ব। মুকুল রায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে রাজেশ কুমারকে অপ্রাসঙ্গিক প্রশাসনিক পদ দিয়ে কোণঠাসা করে রেখেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। তৃণমূলের আশঙ্কা শুধু কলকাতা নয়, রাজেশ কুমার হয়তো সামগ্রিক ভাবে বাংলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইনপুট দিচ্ছেন কমিশনকে। কারণ, এর আগে রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি-র অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল পদে ছিলেন তিনি।

তবে এর পরেও বিজেপি কমিশনের উপর ধারাবাহিক চাপ রেখে চলার কৌশল নিচ্ছে। শুক্রবারও রাজ্য বিজেপি-র তরফে একটি প্রতিনিধি দল কমিশনের দফতরে যায়। তাঁদের দাবি, বাংলায় যে ভাবেই হোক ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু করতে হবে। সেজন্য সব বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে কমিশনকে।

Shares

Comments are closed.