উচ্চ মাধ্যমিকের বাকি পরীক্ষার দিন ঘোষণা করলেন শিক্ষামন্ত্রী, পিছনে তৃণমূলের ব্যানার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিক্ষামন্ত্রী হিসাবে তাঁর ভূমিকা নিয়ে গত কয়েক বছরে বার বার প্রশ্ন উঠেছে। সে কথা থাক। মঙ্গলবার উচ্চ মাধ্যমিকের বাকি তিনটে পরীক্ষার দিন ঘোষণা করতে গিয়ে নতুন সমালোচনার মুখে পড়লেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

    এ দিন নাকতলায় তাঁর বাড়িতে বসে এ ব্যাপারে সাংবাদিক বৈঠক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। দেখা যায়, তাঁর পিছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সহ তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যানার। দলীয় ব্যানারের পিছনে নিয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা কতটা সৌজন্যের তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে এদিন।

    শিক্ষামন্ত্রীর দফতর সল্টলেকের বিকাশভবনে। করোনাভাইরাসের কারণে কনটেইনমেন্ট জোনে লকডাউন চললেও, সেখানে গিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করায় কোনও বাধা নেই। কারণ, সরকারি দফতরে কম সংখ্যক কর্মী নিয়ে কাজ করায় ইতিমধ্যে ছাড়পত্র দিয়েছে নবান্ন। তবে যে হেতু শিক্ষামন্ত্রীর বয়স ষাট পেরিয়েছে এবং করোনার সংক্রমণ থেকে ষাটোর্ধ্বদের ঝুঁকি বেশি, হয়তো সেই কারণেই বাড়িতে বসে সাংবাদিক বৈঠক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।

    সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, মন্ত্রীদের কোনও স্থায়ী দফতর থাকলেও, কোনও মন্ত্রী যখন যেখানে থাকেন, প্রয়োজনে সেই স্থানেই অস্থায়ী দফতর বানিয়ে কাজ চালাতে পারেন। পিছনে দলীয় পতাকা রাখা যাবে কি যাবে না, সে ব্যাপারে কোনও স্পষ্ট বিধিনিষেধও নেই। পুরো ব্যাপারটাই সৌজন্যের প্রশ্ন। নইলে এই বার্তা যেতে পারে যে, মন্ত্রী যে ঘোষণা করছেন তা রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবিত।

    প্রসঙ্গত, কেন্দ্রের মন্ত্রীদের দফতরে যেমন প্রধানমন্ত্রীর ছবি থাকে, তেমনই রাজ্যের মন্ত্রীদের দফতরে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি থাকাটাও এতদিনে দস্তুর হয়ে গিয়েছে। এ ব্যাপারেও অবশ্য লিখিত নিয়মকানুন কিছু নেই। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, শিক্ষামন্ত্রীর পিছনে শুধু মুখ্যমন্ত্রীর ছবি থাকলে হয়তো এত সমালোচনা হত না। কিন্তু ব্যানারটি তাঁর দলীয় ব্যানার। সেটাই দৃষ্টিকটূ হয়েছে।

    উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার দিনক্ষণ ঘোষণা করা ছাড়াও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ উপাচার্য নিয়োগের বিষয়েও এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেছেন, রাজ্যপাল এ ব্যাপারে মাস্তানদের মতো আচরণ করছেন।

    এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে বিজেপি-র সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, আজ নতুন নয়, শিক্ষামন্ত্রী বহু আগেই শিক্ষা দফতরের তৃণমূলীকরণ করে দিয়েছেন। সৌজন্য-অসৌজন্যের মাত্রাজ্ঞান অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছেন তিনি।

    অন্যদিকে রাজ্যের প্রাক্তন উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী তথা সিপিএম নেতা সুদর্শন রায়চৌধুরী বলেন, “যেমন সরকার তেমন তার শিক্ষামন্ত্রী। উনি না জানেন নিয়ম না জানেন কানুন। সরকার আর দল যে আলাদা ব্যাপার এই বোধটাই মন্ত্রীর নেই। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে!”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More