জন্মের ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যু, তিনদিনের শিশুর কর্নিয়া দান করলেন দুর্গাপুরের দম্পতি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জন্মের তিনদিনের মধ্যে মারা গিয়েছে সন্তান। শিশুর কর্নিয়া দান করে নজির গড়লেন দুর্গাপুরের দম্পতি। চিকিৎসক মহল জানিয়েছে, এর আগে এত ছোট শিশুর কর্নিয়া দানের ঘটনা এ রাজ্যে ঘটেনি। দেশেও এই প্রথম। এমনটাই দাবি করেছে দুর্গাপুর ব্লাইন্ড রিলিফ সোসাইটি। চক্ষু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চক্ষুদান আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই দম্পতি অবদান প্রশংসনীয়।

অণ্ডাল নর্থ বাজারের ক্ষুদিরামপল্লির বাসিন্দা অরূপ পান ও দীপান্বিতা। শুক্রবার দুপুরে দুর্গাপুর বিধাননগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ছেলের জন্ম দেন দীপান্বিতা। কিন্তু জন্মের পরেই চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন জটিল রোগ রয়েছে নবজাতকের। অ্যামোনিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় উৎসেচক তৈরি হচ্ছে না সদ্যোজাতর শরীরে। বাঁচার সম্ভাবনা বেশ কম। এরপর রবিবার সকালে মৃত্যু হয় তিন দিনের শিশুটির। চিকিৎসকরা জানান, মোনিয়া বেড়ে যাওয়ার কারণে হৃদযন্ত্র বিকল ও ‘ব্রেন ডেথ’ হয়ে মৃত্যু হয়েছে শিশুটির।

মৃত শিশুর বাবা অরূপ পান জানিয়েছেন, ওই হাসপাতালেই কর্মরত তাঁর দিদি। সন্তানের মৃত্যুর পর তাঁরা যখন শোকস্তব্ধ, তখন অরূপের দিদি মিঠুই প্রথম কর্নিয়া দানের প্রস্তাব দেন। আর দেরি করেননি অরূপ এবং দীপান্বিতা। তাঁদের কথায়, “একটাই কথা মাথায় এসেছিল, আমার সন্তান অন্য কারও শরীর বেঁচে থাকবে। এই আমাদের জন্য অনেক।” রবিবার দুপুরেই দুর্গাপুর ব্লাইন্ড রিলিফ সোসাইটি-র কর্মীরা এসে কর্নিয়া সংগ্রহ করেন।

কিন্তু এত ছোট শিশুর কর্নিয়া প্রতিস্থাপন কি সম্ভব?

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, কোনও সদ্যজাতর কর্নিয়া প্রয়োজন হলে সেক্ষেত্রে সব ঠিকঠাক ম্যাচ করে গেলে অবশ্যই এই কর্নিয়া প্রতিস্থাপন সম্ভব। তাঁরা আরও জানিয়েছেন যে, আজকাল কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে বয়স কোনও বাধাই নয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More