অস্ত্র সমেত গ্রেফতার বিজেপির হুগলি জেলা সাংগঠনিক সভাপতির গাড়ির চালক, উদ্ধার দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং তিন রাউন্ড কার্তুজ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো:  দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং তিন রাউন্ড কার্তুজ সহ গ্রেফতার বিজেপির হুগলি জেলা সাংগঠনিক সভাপতি সুবীর নাগের গাড়ির চালক। গত ন’মাস ধরে সুবীর নাগের গাড়ি চালাচ্ছিলেন চুঁচুড়া জগুদাসপাড়ার বাসিন্দা বরুণ দাস। রবিবার গভীর রাতে পিপুলপাতি এলাকার একটি ক্লাব ঘর থেকে অস্ত্র সহ তাঁকে গ্রেফতার করেছে চুঁচুড়া থানার পুলিশ। তারা জানিয়েছে, এর আগেও দু’টি খুনের অভিযোগ রয়েছে বরুণের বিরুদ্ধে।

    ২০০৯ সালে চুঁচুড়াতে খুন হয় মাধব শর্মা নামের এক ব্যক্তি। সেই খুনে নাম জড়ায় বরুণের। সে সময় খুনে অভিযোগে জেলও হয় তাঁর। এরপর ২০১২ সালে শেওড়াফুলিতে প্রদীপ বোস নামের আর এক ব্যক্তিকে খুনের অভিযোগ ওঠে এই বরুণের বিরুদ্ধে। সে সময় পুলিশকে বরুণ জানায় এই প্রদীপই নাকি তাঁকে মাধব শর্মা খুনে ফাঁসিয়েছিল। তাই প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য জেল থেকে বেরিয়েই প্রদীপকে খুন করেন তিনি। জানা গিয়েছে, হালফিলে বিজেপি সভাপতির গাড়ির চালক হলেও তাঁর সঙ্গে সবসময়েই থাকত অস্ত্র।

    এ দিকে বরুণ দাস গ্রেফতার হওয়ায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। চুঁচুড়ার তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারের কথায়, “অস্ত্র সমেত বিজেপি সভাপতির গাড়ির চালক ধরা পড়েছেন। এটা কি দুষ্কৃতীদের দল? দলের একজন সভাপতির কাছে সমাজ বিরোধীরা শেল্টার নিচ্ছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?” তবে বিজেপি সভাপতি সুবীর নাগ বলেছেন, “বরুণ একসময় খুনের আসামী ছিল। কিন্ত আদতে ও অত্যন্ত সৎ এবং ভালো ছেলে। বিজেপি’র সংস্পর্শে থেকে ভালোও হয়ে যাচ্ছিল। ওর কাছ থেকে লাইসেন্স বিহীন আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া গেছে, যেটা ও আত্মরক্ষার জন্য রাখত।” এর পাশাপাশি তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে সুবীরবাবু অভিযোগ করেছেন যে, “শাসকদল চক্রান্ত করে বরুণকে ফাঁসিয়েছে। কেউ যদি একসময় খারাপ কাজ করে থাকে এবং পরে সংশোধিত হয়, তা হলে তাকে আবার ফাঁসিয়ে বিপথগামী করার চেষ্টা ঠিক না।”

    কিন্তু দু-দুটো খুনের আসামীকে কেন কাজে বহাল করেছিলেন বিজেপি সভাপতি সুবীর নাগ এখন তাই নিয়েই বিভিন্ন মহলে উঠছে নানা প্রশ্ন।

    এমনিতেই গত কয়েক মাস ধরে হুগলির জেলা সদরের আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতি ভালো নয়। ক্লাবের মধ্যে খুন হয়েছেন যুবক। ব্যান্ডেলে খুন হয়েছেন তৃণমূল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির স্বামী দিলীপ রাম। এর পর আইন শৃঙ্খলা ফেরাতে শাসক দলকেই বনধ ডাকতে হয়েছিল চুঁচুড়ায়। বারবার এই ধরনের ঘটনায় হুগলি জেলা সদরের আইন শৃঙ্খলা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছিল রবিবার বিজেপি সভাপতি বরুণ দাসের গ্রেফতার হওয়া সেই প্রশ্নকেই আরও খানিকটা উস্কে দিল বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More