এসএসকেএম-এ কুকুরের ডায়ালিসিস: ভর্ৎসিত নির্মল মাজিরা, চার বছর পর রায় দিল এমসিআই

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেটা ২০১৫ সালের জুন মাস। তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল রাজ্যে। অভিযোগ উঠেছিল, এসএসকেম হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগ সেজেছে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির পোষ্যের ডায়ালিসিসের জন্য। নাম জড়িয়েছিল শাসক দলের নেতা তথা বর্তমান রাজ্যের মন্ত্রী চিকিৎসক নির্মল মাজির। সেই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার রায় জানাল মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া বা এমসিআই। শনিবার এমসিআই ওই ঘটনাকে নিন্দনীয় বলে নির্মল মাজি, তৎকালীন হাসপাতাল সুপার প্রদীপ মিত্র এবং নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান রাজেন পাণ্ডেকে সতর্ক করল। একই সঙ্গে ওই ঘটনার জন্য ভর্ৎসনাও করা হয়েছে এই তিনজনকে।

সরকারি হাসপাতালে ডায়ালিসিস পেতে মানুষের জুতোর সোল ক্ষয়ে যায়, সেখানে কিনা কুকুরের ডায়ালেসিস?

ওই ঘটনার পর একাধিক মামলা হয়েছিল বিভিন্ন জায়গায়। প্রবাসী চিকিৎসক কুণাল সাহা মামলা করেন কলকাতা হাইকোর্টে। সেই মামলা গুরুত্ব পায়নি। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলেও তাঁর মামলা দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা হয়। তারপর তিনি যান সর্বভারতীয় মেডিক্যাল কাউন্সিলে। সেই রায়েই চার বছর পর ভর্ৎসনা করল এমসিআই।

ওই সময়ে অভিযোগ ওঠে, যে প্রভাবশালী ব্যক্তির পোষ্যের জন্য এই এত আয়োজন হয়েছিল, তিনি নির্মল মাজির খুবই ঘনিষ্ঠ। জানা গিয়েছিল, হাসপাতালের অধিকর্তা অনুমতি দিয়ে দিয়েছিলেন। বিভাগীয় প্রধানও নির্দেশ পাঠিয়েছিলেন বিভাগীয় চিকিৎসকদের কাছে। কিন্তু জানাজানি হতেই আটকে যায় বিষয়টি। পরে সেই পোষ্যটি মারাও যায় বলে খবর।

এই ঘটনা নিয়ে সারা রাজ্যে হইহই পড়ে গেলেও নির্মলবাবু ছিলেন নির্লিপ্ত। বিবেকানন্দের বাণী আওড়ে বলেছিলেন, “জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর। কুকুরটা খুব সুন্দর, ছটফটে। তিন মাস ধরে কষ্ট পাচ্ছিল। তাই এসএসকেএমের একটা হেল্প নিতে চেয়েছিলাম।’’ তৎকালীন নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান তথা বর্তমান রাজ্য স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাজেন পাণ্ডে বলেছিলেন, “‘একটা কুকুরের ডায়ালিসিসের অনুরোধ এসেছিল। তাতে হয়েছেটা কী? মানুষ ও কুকুর, উভয়েই স্তন্যপায়ী গোষ্ঠীর প্রাণী। দু’জনের ডায়ালিসিস একই ধরনের মেশিনে হতে পারে।’’ কিন্তু চার বছর পর ভর্ৎসিত হতে হল তাঁদের।

পড়ুন দ্য ওয়াল-এর পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

সাইকেল ব্রহ্মচারীর আমেরিকানামা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More